গোদাগাড়ীতে পুলিশ হেফাজতে মাদক ব্যবসায়ীর মৃত্যু

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে পুলিশ হেফাজতে আবু বাক্কার (৬৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত আবু বাক্কার উপজেলার কাঁকনহাট পৌরসভার দরগাপাড়া মহল্লার মৃত জুবাদ আলীর ছেলে।
 
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত ৮টার দিকে গোদাগাড়ী থানার কাকনহাট পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আমিনুল ও কনস্টেবল আনোয়ার হোসেন ও পুলিশের সোর্স ফাইন নামের এক যুবক আবু বক্করের বাড়িতে গিয়ে একটি মামলার সাক্ষী দিতে হবে বলে মোটরসাইকেলে করে উঠিয়ে কাকনহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে নিয়ে যায়। আবু বক্কর নিজে অসুস্থ হলে পুলিশকে জানালে এক রকম জোর করেই উঠিয়ে নিয়ে যায় বলে আবু বক্করের ফুফাতো ভাই মানসুর রহমান ও বকুল নামের এক স্থানীয় লোক জানায়। এরপর তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান বলে নিশ্চিত করেন গোদাগাড়ী ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. শওকত আলী।
 
কাকনহাট পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম বলেন, কাঁকনহাট রেলস্টেশন এলাকায় সিরাজুলের চায়ের দোকানে অভিযান চালিয়ে ২ কেজি ২৫০ গ্রাম গাঁজাসহ তিনজনকে আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন কাঁকনহাট এলাকার সুন্দরপুর পশ্চিম পাড়ার মৃত উসমানের ছেলে সিরাজুল ইসলাম (৬৫), তেতুলিয়া দাঙ্গা নগর পাড়া গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে তরিকুল (২৩) ও কাঁকনহাট পৌরসভার দরগাপাড়া মহল্লার মৃত জুবাদ আলীর ছেলে আবু বাক্কার (৬৫)। আবু বাক্কার গাঁজা বিক্রি ও নিজেও সেবন করতো। আমিনুল ইসলাম দাবি করেন, আটকের পর আবু বাক্কারকে তদন্ত কেন্দ্রে নেওয়া হয়। তবে হাজতে নেয়ার আগেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাই সঙ্গে সঙ্গে তাকে গোদাগাড়ী ৩১ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু পথেই তিনি মারা যান। রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদ নেওয়াজ কাকনহাট পুলিশ ফাঁড়িতে যান। তার উপস্থিতিতে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
 
গোদাগাড়ী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ( তদন্ত) আলতাব হোসেন বলেন, এ নিয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই জানা যাবে আসল ঘটনা, তারপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
 
ইত্তেফাক/এসএস