বর্তমানে বহুল আলোচিত সমস্যার একটি হচ্ছে ‘প্রশ্নপত্র ফাঁস’। এ সমস্যায় হতাশ হয়ে পড়েছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকসহ সরকারও। কোনভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না এ সমস্যাটি। প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে আশার বাণী শোনাচ্ছেন পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার চেংঠিহাজরাডাঙ্গা ইউনিয়নের বাগদহ নতুন বাজার এলাকার মো. নুরুল ইসলামের ছেলে মো. রানা ইসলাম।
নবম শ্রেণি পাস রানা ইসলাম মোবাইল সার্ভিসিং ও স্টুডিও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। দেবীগঞ্জ উপজেলার চেংঠিহাজরাডাঙ্গা ইউনিয়নের বাগদহ নতুনবাজার এলাকায় ৫/৬বছর ধরে এ পেশায় কাজ করে আসছেন।
রানা এমন একটি ডিভাইস বক্স আবিষ্কার করেছেন যা দিয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ করা সম্ভব। এ ডিজিটাল বক্স ডিভাইস নিয়ে ২০১৮ সালে জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলায় অনুষ্ঠিত বিজ্ঞান মেলায় প্রথম ও পঞ্চগড় জেলা পর্যায়ে বিজ্ঞান মেলায় প্রথম স্থান অধিকার করেন। আগামী মাসে অনুষ্ঠিত রংপুর বিভাগীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলায় তিনি পঞ্চগড় জেলার হয়ে অংশ নেবেন। উপজেলা বিজ্ঞান মেলায় এ ডিভাইসটি প্রথম হয়।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাসনাৎজ্জামান চৌধুরী জজ ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ মাহমুদ হাসান তার হাতে প্রথম পুরস্কার তুলে দেন। পঞ্চগড় জেলা পর্যায়ে অনুষ্ঠিত বিজ্ঞান মেলাতেও এ ডিভাইসটি প্রথম স্থান অর্জন করেন। পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম তার হাতে প্রথম পুরস্কার তুলে দেন।
রানা ইসলাম বলেন, প্রতি বছরই শুনি প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস যেন না হয় এজন্য ২০১৪ সাল থেকে এমন একটি ডিভাইস তৈরির জন্য চিন্তাভাবনা শুরু করি। ২০১৭ সালের মার্চ-এপ্রিলের দিকে এ ডিভাইসটি তৈরির কাজ শেষ হয়। এ ডিভাইসটির নামকরণ করেছি ‘ডিজিটাল লক বক্স’। বক্সটি আমি আপাতত কাঠ দিয়ে তৈরি করেছি। সরকার চাইলে লোহা, স্টিল বা যে কোন কিছু দিয়ে বক্স তৈরি করতে পারে। বক্সটি একটি ক্যামেরা, দুটি মোবাইল ফোন ও তিনটি সিম দিয়ে তৈরি করতে হবে। মোবাইলে নেটওয়ার্ক থাকবে। একটি সিমে থাকবে সিগনাল ও অপর দুটি সিম ব্যবহৃত হবে বক্স লক অফ অন করার কাজে। এটি দেশের যে কোন প্রান্ত থেকে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।
রানা ইসলাম জানান, ডিজিটাল লক বক্সটি তৈরি করতে ২০/২৫ হাজার টাকার মতো খরচ হবে। উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করলে খরচ আরও বাড়তে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন। পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) গোলাম আযমের এক প্রশ্নের জবাবে রানা জানান, পরীক্ষা শুরু হয় সকাল ১০টায়। পরীক্ষার্থীরা কক্ষে প্রবেশ করার পর ডিভাইজটির লক খোলা হবে। এতে সময় লাগবে ৫ মিনিট। প্রশ্নপত্র দিতে সময় লাগবে ২০/২৫ মিনিট। পরীক্ষা শুরু হবে সাড়ে ১০টায়। খাতা জমা নেয়া হবে দেড়টায়।
ইত্তেফাক/আরকেজি