নেদারল্যান্ডের দি হেগের এ্যাট্রিয়াম সিটি হলে আজ প্রথমবারের মত বাংলাদেশের শিল্পীদের চিত্রকর্ম প্রদর্শিত হয়েছে। 'দ্য শেডস অব প্যাশন' শিরোনামে ৪১টি চিত্রকর্মের এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দি হেগের ডেপুটি মেয়র রবীন বালদেব সিং। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী রফিকুন নবী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ থেকে আগত নতুন প্রজন্মের আরও দুজন শিল্পী ডঃ মোহাম্মদ ইকবাল এবং প্রদ্যুৎ কুমার দাস উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশী শিল্পীদের মোট চল্লিশটি পেইন্টিং এবং নেদারল্যান্ডের ভিত্তিক বাংলাদেশী শিল্পী আনিকা আহমেদের একটি পেইন্টিং প্রদর্শিত হয়েছে। বাংলাদেশের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর পৃষ্ঠপোষকতায় প্রদর্শনীটি আয়োজন করেছে দি হেগস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস।
IMG0
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দূতাবাসের কূটনীতিকগণ, ডাচ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, স্থানীয় গণমাধ্যম, ডাচ চিত্রশিল্পী, ছাত্র, প্রবাসী বাংলাদেশীসহ প্রায় ৮০ জন অতিথি উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী বক্তৃতায় নেদারল্যান্ডসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শেখ মুহম্মদ বেলাল উল্লেখ করেন, দেশ-জাতি-সমাজ নির্বিশেষে সেতুবন্ধন তৈরীতে চিত্রশিল্পীদের অসামান্য অবদান রয়েছে। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন ও পটুয়া কামরুল হাসান বাংলাদেশে চিত্রশিল্পের যে ভিত্তি গড়েছেন, বাংলাদেশের বর্তমান প্রজন্মের শিল্পীগণ যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে যথাযথভাবে এই শিল্পকে নতুন মাত্রায় উন্নীত করেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, চিত্রশিল্পীদের জন্য সদা অনুপ্রেরণাস্বরূপ বিখ্যাত চিত্রশিল্পী রমব্র্যান্ড্ট, ভেরমেয়ার এবং ভ্যান গঘ এর দেশ নেদারল্যান্ডসে বাংলাদেশের শিল্পীদের চিত্রকর্মের এই প্রদর্শনীটি নিঃসন্দেহে দেশের জন্য বিরল সম্মান বয়ে এনেছে।
রাষ্ট্রদূত বেলাল আরো উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়ন অর্জনে সক্ষম হচ্ছে। সামাজিক উন্নয়নের সকল সূচকে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জণ করেছে। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার প্রায় সবগুলোই অর্জনে সক্ষম হয়েছে। জাতিসংঘ কর্তৃক নির্ধারিত তিনটি ক্যাটাগরির- মাথাপিছু জাতীয় আয়, মানবসম্পদ ইনডেক্স এবং অর্থৈনতিক ভঙ্গুরতা ইনডেক্স প্রয়োজনীয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করায় প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের উন্নয়ন পলিসি কমিটি গত ১৫ মার্চ ২০১৮ তারিখে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের স্ট্যাটাস থেকে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জণ করেছে মর্মে ঘোষণা প্রদান করেছে।
তিনি আরো বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দশনায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত ও বৈষম্যহীন "সোনার বাংলা", প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বাংলাদেশ একটি 'উন্নয়ন আশ্চর্য' হিসেবে বিশ্বের একটি উন্নয়ন রোল মডেল হয়ে উঠেছে।
নেদারল্যান্ড ও বাংলাদেশের উভয় দেশের বদ্বীপীয় সাদৃশ্যকে তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত বেলাল, উভয় দেশের শিল্পী ও শিক্ষাবিদদের উভয় দেশের জন্য একটি নিরাপদ বদ্বীপ গঠনে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান। রাষ্ট্রদূত বেলাল, কিংবদন্তী শিল্পী রফিকুন নবীর অমর সৃষ্টি 'টোকাই' এর কথা উল্লেখ করে সমাজে ক্রমবর্ধমান বৈষম্য ও অবিচারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর জন্য সবাইকে আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত জনাব রফিকুন নবী বাংলাদেশে সমকালীন শিল্পকর্মে কীভাবে বিকাশ হচ্ছে এবং কিভাবে আমাদের সমসাময়িক শিল্পীরা এই প্রাচীন শিল্পে নতুন মাত্রা যোগ করছে তা উপস্থাপন করেছেন।
প্রধান অতিথি ডেপুটি মেয়র, রবিন বালদেবসিং প্রথমবারের মতো নেদারল্যান্ডসে বাংলাদেশের চিত্রশিল্প প্রদর্শনী আয়োজনের জন্য অভিনন্দন জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, জাতি হিসাবে ডাচ শিল্প ও সংস্কৃতির রচয়িতা, প্রকৃতপক্ষে এটি নেদারল্যান্ডে বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ও শান্তির প্রদর্শনীর একটি অনন্য সুযোগ। এই প্রদর্শনীটি দুটি দেশের সম্পৃক্ততাকে আরও জোরদার করবে। তিনি আরো বলেন শিল্প, সাহিত্য বা সঙ্গীত সংস্কৃতির সকল ধারাতেই বাংলাদেশ এগিয়ে রয়েছে।
পরে প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি এবং রাষ্ট্রদূত বেলাল ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। প্রদর্শনীটি আগামী ১৩ এপ্রিল ২০০৮ পর্যন্ত চলবে, আশা করা যায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দর্শক দু’ সপ্তাহব্যাপী এই প্রদর্শনীটি দেখতে আসবেন।
ইত্তেফাক/নূহু