তিন সপ্তাহে তদন্তের অগ্রগতি শূন্য

ঘটনার তিন সপ্তাহের অধিক সময় পার হলেও কলেজ ছাত্রীর শ্লীলতাহানির সঙ্গে জড়িত ৬/৭ জন বখাটে যুবককে শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। ওই ঘটনার ব্যাপারে পুলিশ ভিডিও ফুটেজ উদ্ধার করেছে। তবে পুলিশ বলছে, কলেজ ছাত্রীর অভিযোগ করার ঘটনার বিষয়ে ভিডিও ফুটেজ পাওয়া যায়নি। যে ভিডিও ফুটেজটি পাওয়া গেছে, সেখানে সাদা রঙের টি-শার্ট পরিহিত কয়েকজন যুবককে হেঁটে যেতে দেখা গেছে। তবে তারা ওই কলেজ ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত বা শ্লীলতাহানির চেষ্টা করার কোন দৃশ্য ওই ফুটেজে নেই। ভিডিও ফুটেজটি চুলচেরা বিশ্লেষণ করে তদন্ত সংশ্লিষ্ট ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের দক্ষিণ বিভাগ কাউকে খুঁজে পায়নি।

গত ৭ মার্চ  বেলা ১২ টার দিকে বাংলামোটর মোড়ে এক কলেজছাত্রী বখাটেদের দ্বারা শ্লীলতাহানির শিকার হন। এ ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বিষয়টি উল্লেখ করে নিজের ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি ভাইরাল হলে পরদিন পুলিশ ওই শিক্ষার্থীর বক্তব্য নেয়। পরে শিক্ষার্থীর বাবা রমনা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ১৫/২০ জনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলাটি তদন্তের জন্য ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের দক্ষিণ বিভাগে স্থানান্তর করা হয়।

ঘটনার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল গণমাধ্যমের কাছে বলেন, কলেজ ছাত্রীর শ্লীলতাহানির ঘটনায় ভিডিও ফুটেজ পাওয়া গেছে। জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হবে। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, ঘটনার দিন বখাটেদের হাত থেকে মেয়েটিকে উদ্ধার করা সেই পুলিশ সদস্যকে এখন পর্যন্ত শনাক্ত করা যায়নি। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন শাখার উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমরা ভিডিও ফুটেজ তদন্ত করছি। বখাটে যুবকদের শনাক্ত করার কাজও চলছে। ভিডিও ফুটেজের দৃশ্য অস্পষ্ট বলেই শনাক্ত করতে সময় লাগছে।’

মামলার তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) রাজিব আল মাসুদ জানান, ঘটনার সময় আশেপাশের পথচারীদের মধ্যে কেউ মোবাইল ফোন দিয়ে ভিডিও করতে পারেন। এ ব্যাপারে কারো কাছে এ ধরনের ভিডিও ফুটেজ থাকলে তা তদন্তের স্বার্থে পুলিশের কাছে জমা দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/নূহু