প্রতিবেশী এক যুবকের মাধ্যমে বাজার করিয়ে নেয়ার ঘটনায় পরিবারের অন্য সদস্যদের হাতে জখম হন মর্জিনা বেগম নামে এক নারী। গুরুতর অবস্থায় স্থানীয় লোকজন তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করে। এরপর এলাকায় মন্ত্রী আসার খবর পেয়ে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে তার সাথে দেখা করেন মর্জিনা। মন্ত্রীর নির্দেশে ঘটনার পাঁচদিন পর থানায় মামলা রেকর্ড করা সহ এক আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
জানা যায়, উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের মোজাম্মেল হকের মেয়ে মর্জিনা বেগমের (৩৫) পার্শ্ববর্তী নাটোর জেলার লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর চণ্ডিগাছা গ্রামে বিয়ে হয় প্রায় ১২ বছর আগে। দুই বছর আগে তার স্বামী ইসাহক আলী মারা যান। এরপর থেকে মর্জিনা দর্জির কাজ করে তার সংসার চালান। ঘটনার দিন বুধবার বিকেলে পার্শ্ববর্তী এক যুবককে বাজার করার জন্য টাকা দেন মর্জিনা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার সাথে প্রথমে ঝগড়া এরপর মারপিট করে তার দেবর জহুরুল, সাহাদত ও জহুরুলের ছেলে সোহান। ঘটনার পর প্রতিবেশী লোকজন মর্জিনাকে স্থানীয় লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র ভর্তি করে।
এদিকে ঘটনার পাঁচদিন পর এলাকায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এসেছেন খবর পেয়ে শনিবার দুপুরে পার্শ্ববর্তী বাঘা উপজেলায় এক অনুষ্ঠানে মন্ত্রীর সাথে দেখা করতে ছুটে আসেন মর্জিনা বেগম। এরপর যেই কথা-সেই কাজ। মন্ত্রী নিজ চোখে ওই নারীর অবস্থা দেখে আবাক হয়ে যান এবং সঙ্গে সঙ্গে মামলা নেয়া সহ আসামিদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। পরে প্রধান আসামি দেবর জহুরুল হককে গ্রেফতার করে পুলিশ।
লালপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আদি ওবায়েদ জানান, স্বামী না থাকার কারণে জমি-জমার বিষয় নিয়ে দেবরের সঙ্গে আগে থেকেই ভাবির মনমালিন্য ছিল। ঘটনার দিন সামান্য বাজার করার বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া থেকে সংঘাতের সৃষ্টি হয়। তিনি এ মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।
ইত্তেফাক/আরকেজি