পঞ্চগড় জেলার সদর উপজেলার গড়িনাবাড়ি ইউনিয়নের কালিখাপুর এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ইউনুস খান (১৮) নামে এক কলেজ ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ইউনুস পঞ্চগড় মকবুলার রহমান সরকারি কলেজের একাদশ প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। সে ওই এলাকার সফিজুল ইসলামের ছেলে। বিরোধীয় জমিতে ঘর তুলতে বাধা দিলে প্রতিপক্ষরা তাকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় পুলিশ ২ আসামিকে আটক করেছে। আটককৃতরা হলেন- ওই গ্রামের পরমত আলীর দুই ছেলে হাসিবুল ইসলাম (৫০) ও জবিরুল ইসলাম (৪৫)।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ওই এলাকার সফিজুল ইসলামের সাথে প্রতিবেশী পরমত আলীর পুত্র হাসিবুল ও জবিরুলদের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। গত শনিবার (৩১ মার্চ) দুপুরে হাসিবুল তার লোকজন নিয়ে বিরোধীয় জমিতে ঘর তুলে। এসময় সফিজুল তার ছেলে ইউনুস বাধা দেয়। এসময় ক্ষুব্ধ হাসিবুল, জবিরুলসহ তাদের লোকজন লাঠি দিয়ে ইউনুসকে বেধড়ক মারপিট করে। এতে ইউনুস অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাকে প্রথমে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় তাকে। রবিবার গভীর রাতে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইউনুস খান মারা যায়। এ ঘটনায় ইউনুস খানের বাবা সফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে হাসিবুল ইসলাম, জবিরুল ইসলামসহ অপর অভিযুুক্তদের বিরুদ্ধে পঞ্চগড় থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
মারা যাওয়ার খবর পেয়ে সোমবার (২ এপ্রিল) দুপুরে পঞ্চগড় থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি তদন্ত) মো. ইজারউদ্দিন ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত হাসিবুলকে আটক করে। পরে স্থানীয় লোকজন অপর অভিযুক্ত জবিরুলকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
নিহত ইউনুস খানের বাবা সফিজুল ইসলাম জানান, আমি একজন ভ্যান চালক। ভ্যান চালিয়ে কোনরকমে ছেলেদের লেখাপড়া চালিয়ে আসছি। আমার পৈতৃক ৫০ শতক জমিই সম্বল। এটুকুতে আমার বাড়িভিটে। ৫০ শতক জমির মধ্যে আমার দখলে রয়েছে ২৫ শতক। অবশিষ্ট জমি হাসিবুল ও জবিরুলরা দখলে রেখেছে। আমি ছেলের হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।
পঞ্চগড় সদর উপজেলার গরিণাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলতামাস হুসাইন লেলিন জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল স্বীকার করে জানান, এ নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে বিচার শালিস চলছে। হাসিবুল ও জবিরুলরা বিচারেও আসেন না আবার জমির কাগজপত্রও দেখাননি। সপিজুল ইসলাম তার দখলে থাকা জমিও ছেড়ে দিতে বললেও তারা তা দেননি। হাসিবুল ও জবিরুল ইউনুস খানকে পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে এলাকার লোকজন আমাকে জানিয়েছেন।
পঞ্চগড় থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি তদন্ত) মো. ইজারউদ্দিন জানান, রংপুরে মারা যাওয়ায় সেখানে নিহত কলেজ ছাত্রের ময়নাতদন্ত শেষে লাশ তার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হবে। নিহতের বাবা হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ ঘটনায় ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই আসামিকে আটক করা হয়েছে। অন্য আসামিদের আটকের চেষ্টা চলছে।
ইত্তেফাক/এমআই