নড়াইলে অর্ধশত কোটি টাকা নিয়ে এনজিও উধাও

নড়াইলের কালিয়ায় প্রায় আট হাজার গ্রাহকের অর্ধশত কোটি টাকা নিয়ে চলন্তিকা যুব সোসাইটি নামের এনজিও উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী। প্রতারণার ফাঁদে পড়ে লাখ লাখ টাকা হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা ওই এনজিওর ম্যানেজার মিলন কুমার দাশসহ স্থানীয় কর্মকর্তাদের বাড়িতে হানা দিতে শুরু করেছে।
 
প্রতারকদের গ্রেফতার, টাকা ফেরত ও শাস্তির দাবিতে সোমবার বিকালে ক্ষতিগ্রস্তরাসহ সর্বস্তরের সহস্রাধিক মানুষ পৌর শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে ইউএনও অফিস ঘেরাও করে প্রতারকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ৩দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে।
 
জানা যায়, ওইদিন সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে চলন্তিকার গ্রাহকরা কালিয়া পৌর শহরে জড় হতে শুরু করে। বিকাল ৩টার দিকে তারা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স চত্বরে সমাবেশ করে। সমাবেশে বক্তরা চলন্তিকা গ্রাহকরা নানা অভিযোগ তুলে ধরে বলেন, চলন্তিকা যুব সোসাইটি খুলনা ভিত্তিক একটি এনজিও যা ২০০৮ সালে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতায় কালিয়া পৌর শহরে অফিস ভাড়া নিয়ে কাজ শুরু করে। অফিস কর্মচারীসহ অঞ্চল ভিত্তিক মাঠকর্মী নিয়োগের মাধ্যমে ব্যাংকের আদলে ৬ বছরে দ্বিগুণ ও দশ বছরে তিনগুণ মুনাফা দেয়ার ঘোষণা দিয়ে উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের কাছ থেকে মেয়াদী আমানত, মাসিক আমানত সংগ্রহ ও ঋণ দান কর্মসূচির কাজ শুরু করে। অধিক মুনাফার প্রলোভন দিয়ে গ্রামের সহজ সরল মানুষকে প্রতারিত করে গত ১০ বছরে ৫০ কোটিরও বেশি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চলন্তিকা যুব সোসাইটির কর্মকর্তারা।
 
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মো. ওয়াহিদুজ্জামান হীরা, সালামাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান শামীম আহম্মেদ, সাবেক যুবলীগ নেতা মো. আসলাম ভূইয়া, এবং গ্রাহকদের মধ্যে ছোটকালিয়া গ্রামের উত্তম স্বর্ণকার, মির্জাপুর গ্রামের হরিপদ বিশ্বাস, বড়কালিয়া গ্রামের সৌরভ রায়, উথলী গ্রামের আবুল শেখসহ অনেকেই অভিযোগ করে বলেছেন, আমানতের মেয়াদ শেষে তারা তাদের সঞ্চয়ের টাকা তুলে নিতে গত ৭ মাস ধরে চেষ্টা চালিয়েছেন। কিন্তু কর্মকর্তারা তাদের টাকা না দিয়ে মাসের পর মাস ঘুরিয়েছে।
 
মেজর (অব) রুহুল কুদ্দুস বলেছেন, ওই এনজিওর প্রতারকরা তার স্ত্রীর কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তার স্ত্রীর মতো বহু সহজ সরল মানুষের কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিয়েছে। অনেকের আমানতের মেয়াদ উর্ত্তীণ হলেও আমানতের টাকা তুলতে গেলে এনজিও কর্মকর্তারা সংস্থার নিয়ম পালনের অজুহাতে কালক্ষেপণ করে সুযোগ বুঝে পলিয়েছে।
 
কালিয়ার ইউএনও মো. নাজমুল হুদা তার অফিস ঘেরাওয়ের সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের দাবির বিষয়ে তিনি সম্ভব্য সব রকমের ব্যবস্থা নেবেন বলে তাদেরকে আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি তাদেরকে আইনী পদক্ষেপ নেয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি