ঠাকুরগাঁওয়ে স্বামী-সতীনের নির্যাতনে হাসপাতালে গৃহবধূ

ঠাকুরগাঁওয়ে  স্বামী ও সতীনের হাতে নির্যাতনে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন রোকসানা ইয়াসমিন লিলি নামে এক গৃহবধূ। 
 
মঙ্গলবার দুপুরে ওই গৃহবধূকে ঠাকুরগাঁও শহরের কলেজপাড়া এলাকা থেকে উদ্ধার করে আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন স্বামী মনসুর খান ও তার প্রথম স্ত্রী ইলা বেগম। 
 
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে ঠাকুরগাঁও শহরের কলেজপাড়া এলাকার মনসুর খান একই এলাকার রোকসানা ইয়াসমিন লিলিকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এই বিয়ে নিয়ে মনসুরের প্রথম স্ত্রী ইলা বেগমের সঙ্গে লিলির বিরোধ সৃষ্টি হয়। এরপর থেকেই শুরু হয় লিলি আক্তারের উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। পারিবারিক বিরোধের জের ধরে কয়েক দিন আগে মনসুর আলী ও সতীন ইলা বেগম মানসিক রোকসানা ইয়াসমিন লিলির উপর নির্যাতন শুরু করে। মঙ্গলবার ভোরে লিলি আক্তারকে তার স্বামী  মনসুর খান ও সতীন ইলা বেগম পাশবিক নির্যাতন করে। লিলির চিৎকারে প্রতিবেশীরা টের পেয়ে তার স্বজনদের খবর দেন। এরপর স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। 
 
নির্যাতিত গৃহবধূর ভাই আলম বলেন, ‘আমার বোনকে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও পাশবিক নির্যাতন করা হচ্ছে। নির্যাতনের ঘটনার জড়িতদের বিরুদ্ধে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।’ গৃহবধূর স্বামী মনসুর খানের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি। 
 
সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল লতিফ মিঞা  জানান, গৃহবধূকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ গৃহবধূর খোঁজখবর নেয়ার জন্য হাসপাতালে গিয়েছিল। অভিযোগ পেলেই নির্যাতনে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
 
ইত্তেফাক/ইউবি