দীর্ঘ ৩ বছর বন্ধ থাকার পর আবারো চালু করা হয়েছে বিদ্যালয় মাঠে তামাক বেচা-কেনার হাট। পাশাপাশি দুটি প্রতিষ্ঠানের মাঠে স্কুল চলাকালীন সময়ে নতুন করে তামাকের হাট বসায় শিক্ষার্থীদের বিঘ্নিত হচ্ছে শিক্ষার পরিবেশ।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোন কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া হয়নি বলে অভিভাবকরা অভিযোগ করেন। এদিকে বিদ্যালয় মাঠে তামাকের হাট বসতে বাঁধা দেয়ায় এক সহকারী শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে সাপ্টিবাড়ি হাট ইজারাদার সংশ্লিষ্ট আফসান সাদী রাদ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, উপজেলার সাপ্টিবাড়ি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও সাপ্টিবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দুটির শিক্ষার্থীরা একই মাঠ ব্যবহার করেন। তিন বছর আগে প্রতিষ্ঠান দুটির মাঠে চলতো তামাক বেচাকেনার জমজমাট হাট। কিন্তু প্রতিষ্ঠান দুটির অভিভাবকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিদ্যালয় মাঠে তামাকের বেচা-কেনা বন্ধ করে দেন কর্তৃপক্ষ।কিন্তু চলতি বছর আবারো ওই প্রতিষ্ঠানের মাঠে জোরপূর্বক বসানো হয়েছে তামাকের হাট। বিদ্যালয় মাঠে তামাকের হাট বসাতে বাঁধা দেয়ায় সহকারী শিক্ষক মজিবর রহমানকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, জোরপূর্বক বিদ্যালয়ের গেটের তালা ভাঙানোরও অভিযোগ উঠেছে সাপ্টিবাড়ি হাট ইজারাদার সাদ্দাম হোসেন সাদের বিরুদ্ধে। সোমবার ও শুক্রবার বসছে বিদ্যালয় মাঠে তামাকের হাট।
গত সোমবার সকালে সরেজমিনে সাপ্টিবাড়ি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও সাপ্টিবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, সকাল ৭টা থেকে বিভিন্ন জায়গা থেকে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য তামাক নিয়ে এসেছেন বিক্রি করার লক্ষে। এভাবেই বিদ্যালয়ের মাঠ দুটিতে তামাক বেচাকেনা চলে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। কিন্তু সকাল ৯টা বাজার আগেই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসা শুরু করেন। সরেজমিনে দেখাগেছে, অনেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা নাক চেপে হাটের ভিতর দিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করছেন। আবার এ মাঠে তামাক বেচাকেনা করায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান বিঘ্নিত হচ্ছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান। কিন্তু একজন শিক্ষক লাঞ্ছিত হবার পর ভয়ে কেউ আর প্রতিবাদ করছেন না।
সাপ্টিবাড়ি হাট ইজারাদার সাদ্দাম হোসেন সাদ জানান, বিদ্যালয় মাঠে তামাক হাট বসানোর জন্য সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর ডিও লেটার রয়েছে আর স্কুল চলাকালীন সময়ে সকাল ১০টার মধ্যে হাট শেষ করার জন্য বলাও হয়েছে। একজন শিক্ষকের সাথে তার বড় ভাইয়ের একটু ঝামেলা হয়েছিলও বলে তিনি স্বীকার করে বলেন, প্রতিষ্ঠানের সভাপতি, বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নিয়ে একটি বৈঠকে মৌখিকভাবে বিদ্যালয়ে মাঠে তামাকের হাট বসানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সাপ্টিবাড়ি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু সাঈদ তায়েজ উদ্দিন তাজু ৩ বছর যাবত বিদ্যালয় মাঠে তামাকের হাট বন্ধ থাকার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, অসুস্থতার কারণে তিনি বিদ্যালয়ে নিয়মিত যেতে পারছেন না। এর বাইরে আর কোন কথা বলতে রাজি হননি তিনি।
সাপ্টিবাড়ি হাটবাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সাপ্টিবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মো. রফিকুল আলম বলেন, এ এলাকায় তামাক উৎপাদন যারা করেন তারা আমাদেরই ভাই বা চাচা। তিনি আরও জানান, ইউনিয়ন পরিষদের মাঠে জায়গা না হওয়ায় দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষার জন্য বিদ্যালয় মাঠে হাট বসানো হয়েছে।
সাপ্টিবাড়ি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুর সোহরাব বিদ্যালয় মাঠে মৌখিকভাবে তামাক হাট বসানোর সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এসব বিষয় নিয়ে পত্রপত্রিকায় লেখালেখি না করাই ভাল।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসাদুজ্জামান বলেন, বিষয়টি জানার পর প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষককে ডেকে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ খবর নিবেন বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান।
ইত্তেফাক/এসএস