১ মন বেগুন বিক্রি করে ১ কেজি চাউল ক্রয়

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বেগুনের বাজার কম থাকায় বেগুন চাষিরা হতাশায় ভুগছেন।উপজেলার বিভিন্ন বাজারে বেগুনের কেজি এক টাকা থেকে দেড় টাকা দরে বিক্রি করছেন। বাজারে বেগুনের চাহিদা না থাকায় কৃষকরা ক্ষেতের বেগুন তুলে গো খাদ্য হিসাবে বাড়ির গরু-ছাগল ও মহিষকে খাওয়াচ্ছেন।
 
আবার অনেক কৃষক বেগুনের দাম কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জমিতে বেগুনের গাছ উঠাচ্ছেন। কেউ কেউ আবার ক্ষেতের বেগুন না তুলে ক্ষেতেই রেখেই দিচ্ছেন। ফলে জমিতেই বেগুন গুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
 
এ বছর শীতের মাত্রা বেশি থাকায় বেগুনের ফলন কম হয়েছে। শীত মৌসুমে বেগুনের দাম ভাল থাকলেও ফলন কম হওয়ায় কৃষকরা খুব বেশি লাভবান হতে পারেনি। তাই আগাম বেগুন চাষিরা অনেকেই লোকসান গুনছে। কৃষকরা শীত মৌসুম শেষে আবারও ক্ষতি পুষিয়ে তোলার জন্য নতুন করে জমিতেই বেগুন চাষ করে। দ্বিতীয় ধাপে বেগুনের ফলনও বাম্পার হয়েছে। প্রথম বেগুনের কিছুটা দাম ভাল পেলেও গত সপ্তাহ ধরে একেবারে বেগুনের বাজারে ধস নেমেছে। ফলে বেগুনের দাম না থাকায় দ্বিতীয় ধাপেও কৃষকদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। বেগুনের দাম ভাল না পেলে চাষিরা বেগুন চাষের আগ্রহ হারিয়ে ফেলার আশঙ্কা করছে।
 
সরেজমিনে, উপজেলার বালারহাট, বোর্ডেরহাট, ফুলবাড়ী হাট, খড়িবাড়ী হাট, গংগাহাট, কাশিপুর হাট, পাখিরহাট, বেড়াকুটিহাট, বড়ভিটা হাট-বাজারে দেখা গেছে, কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর বেগুনের মন প্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা করে বিক্রি করছে।
 
ফুলবাড়ী ইউনিয়নের কৃষক মোজাম্মেল হক (৫০) ও নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের কৃষক ধীরেন্দ্র নাথ বর্মণ বলেন, '১ মণ বেগুন বিক্রি করে ১ কেজি চাউল ক্রয় করছি। তেল-ডাল, পিয়াজতো আছে। এবার আমাদের মত অনেক কৃষককে বেগুন চাষে লোকসান গুনতে হয়েছে।' বর্তমানে বেগুনের এমন বাজার হলে কৃষকরা বেগুন চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে বলে তিনি জানান।
 
চন্দ্রখানা গ্রামের বেগুন চাষি শাহাদত আলী (৪৫) ও আতাউর রহমান (৪৭) বলেন, 'বেগুন চাষে কৃষকদের অনেক বেশি খরচ হয়। সময় মতো কীটনাশক প্রয়োগ, সার-পানি ইত্যাদি দিতে হয়। বেগুন ক্ষেতে সব সময় কৃষকদের পড়ে থাকতে হয়। কৃষকরা এতো পরিশ্রম করে বেগুন চাষ করে। কিন্তু এ বছর বেগুনের ফলন ভাল হলেও দাম না থাকায় আসল খরচ তুলতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাই এ বছর বেগুন চাষিরা লাভের মুখ দেখতে পাচ্ছে না।'
 
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবুর রশিদ বলেন, বর্তমানে এ উপজেলায় ৭০ হেক্টর জমিতে বেগুন ক্ষেত রয়েছে। ফলনও বাম্পার হয়েছে। বেগুনের উৎপাদন বেশি ও বর্তমান মানুষের শরীরে বিভিন্ন রোগ ও স্বাস্থ্যগত কারণে অনেকেই বেগুন খাওয়া বন্ধ করেছে। তাই বেগুনের দাম একেবারে কমেছে। ফলে কৃষকরা ভাল দাম না পেয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে। আশা করছি সামনে রমজান মাস আসছে। এক মাসের মধ্যে আবারও ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি বেগুন বিক্রি করবে এবং কৃষকরা লাভবান হবে।
 
ইত্তেফাক/এসএস