৭ এপ্রিল বরিশাল বিভাগীয় সমাবেশে বড় ধরনের শো-ডাউন করতে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে এখানকার বিএনপি নেতারা। বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও বরিশাল মহানগর সভাপতি মজিবর রহমান সরোয়ারের নেতৃত্বে প্রায় দু’মাস ধরে তৃণমূল পর্যায়ে প্রস্তুতি সভা করে বিভাগীয় এ সমাবেশের প্রস্তুতি নেয়া হয়। সে লক্ষ্যে সমাবেশ স্থলের জন্য বিএমপি কমিশনারের অনুমতি চেয়ে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত অনুমতি পায়নি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বিএনপি কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, পুলিশ আমাদের অনুমতি না দিলেও আমরা জনগণের স্বার্থে সমাবেশ করব। বেগম খালেদা জিয়াকে নিঃশর্ত মুক্তি দেয়ার দাবিসহ নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের অধীনে আগামী সংসদ নির্বাচনের দাবিতে এই সমাবেশ করা হবে। আর এই সমাবেশ পরিণত হবে জনসমুদ্রে। সরোয়ার বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী সংবিধানে ৩৮ অনুচ্ছেদ অনুসরণ করে বিএমপি কমিশনারের কাছে আমরা সমাবেশের অনুমতি চেয়েছি। ইতিমধ্যে আমরা লিফলেট ও পোস্টারে সমাবেশ স্থল হিসেবে বরিশাল মহানগরী উল্লেখ করেছি। সেক্ষেত্রে পুলিশ যদি সমাবেশের অনুমতি না দেয় বরিশাল বিভাগের জনস্রোতের জন্য বরিশাল বিএনপি দায়ী থাকবে না। বিএনপি বিশ্বাস করে সমাবেশের প্রস্তাবে প্রশাসনের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে। আমরা বারবার পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে গিয়ে সমাবেশ স্থল নিয়ে আলোচনা চেষ্টা চালিয়েও কোনো সুফল পায়নি।
বিগত দু’মাস ধরে বরিশাল জেলা ও মহানগর বিএনপির উদ্যোগে বিভাগের অপর ৫টি জেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, শ্রমিক দল সহ অঙ্গসংগঠনের সভাপতি-সম্পাদক সহ অন্যান্যদের নিয়ে প্রস্তুতি সভা করেছে। প্রতিদিনই বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কমিটি নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে সভা করে সমাবেশ সফল করতে নানান কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। সভায় দলের যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ার কর্মসূচি সফল করতে নানান পরামর্শ দিয়েছেন। সরোয়ারের পরামর্শ অনুযায়ী ইতিমধ্যেই সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে বিএনপি নেতারা জানান।
বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন জানান, আমরা প্রথমে নগরীর কালেক্টরেট পুকুর পাড় ও বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়কের মধ্যে যেকোনো একটি ভেন্যুতে সমাবেশ করার অনুমতি চেয়েছিলাম। তবে জনদুর্ভোগের দোহাই দিয়ে সেখানে সমাবেশের অনুমতি প্রদানে অনীহা প্রকাশ করে পুলিশ। পরবর্তীতে জিলা স্কুল মাঠের জন্য অনুমতি চাওয়া হলেও তাও ফিরিয়ে দেন নগর পুলিশ কর্মকর্তারা। তার বলেছেন, বরিশাল নগরীর বাইরে সমাবেশ করতে। তবে সেটা আমরা মানছি না।
বিএনপির নেতারা জানান, তাদের অতীত অভিজ্ঞতা অনুযায়ী পুলিশ শেষ সময়ে অনুমতি দিবে না এমন সিদ্ধান্ত আসবে জেনেই সেভাবে প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। বিভাগের সকল জেলা-উপজেলা থেকে বিএনপি-নেতাকর্মীরা নগরীতে জড়ো হতে থাকলে কারোর কিছু করার থাকবে না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা জানান, ইতিমধ্যেই বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের বাসায় পুলিশি অভিযান শুরু হয়েছে।
দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি এবায়দুল হক চাঁন বলেন, বিভাগের এ কর্মসূচি সফল করতে লিফলেট বিতরণ সহ নানান ভাবে প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়েছে। তৃণমূল নেতা-কর্মীদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। ৭ এপ্রিলের বিভাগীয় এ সমাবেশে প্রায় লক্ষাধিক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করবে বলে তিনি জানান।
মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জিয়া উদ্দিন সিকদার জানান, বিভাগীয় সমাবেশে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটি সদস্য ড. মঈন খান, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস সহ সিনিয়র নেতারা বক্তৃতা করবেন।
সমাবেশের অনুমতির বিষয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার এসএম রুহুল আমিন বলেন, এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে সমাবেশের জন্য যারা এসেছিলেন তাদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে নগরীর মধ্যে বড় সমাবেশ করলে জনভোগান্তি বাড়বে এবং চলতি এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য কষ্টকর হবে। তাই নগরীর থেকে বাইরে সমাবেশ স্থলের জন্য তাদের বলা হয়েছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের বাসায় পুলিশি অভিযান সম্পর্কে তিনি বলেন কারো বিরুদ্ধে মামলা থাকলে রুটিন ডিউটি অনুযায়ী আটকের অভিযান চলতে পারে। সমাবেশ উপলক্ষে কারোর বাড়িতে অভিযান হচ্ছে না।
দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন, দক্ষিণ জেলা বিএনপি সভাপতি এবায়দুল হক চাঁন, উত্তর জেলা বিএনপি সভাপতি মেজবা উদ্দিন ফরহাদ, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক জিয়া উদ্দিন সিকদার, যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ারুল হক তারিন, মহানগর যুবদল সভাপতি আখতারুজ্জামান শামীম, সম্পাদক মাসুদ হাসান মামুন সহ বিএনপি নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ইত্তেফাক/আরকেজি