মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ভুগছে চা শ্রমিকরা। বাগানের ডিসপেনসারিগুলিতে নেই ভাল চিকিৎসক এবং পর্যাপ্ত ওষুধ ব্যবস্থা। উপযুক্ত স্যানিটেশন ও পুষ্টির অভাবে প্রতিনিয়ত নানা রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে তারা। চা শ্রমিকদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তার ব্যাপারে মালিকপক্ষের অনিচ্ছা-অনীহার কথা জানিয়েছেন শ্রমিকরা।
শ্রমিকরা বলেন, চা বাগানের সেকশনগুলোতে ছাউনি ও শৌচাগার না থাকার কারণে কর্মক্ষেত্রে নানা অসুবিধায় পড়েন তারা। ফলে যেখানে সেখানে মল ত্যাগ আর ছাউনির অভাবে বৃষ্টিতে ভিজে বিভিন্ন রকমের রোগে আক্রান্ত হতে হয় তাদের। এ ব্যাপারে নিজেরদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে চা বাগানের মেডিকেলগুলোকে সরকারিকরণের দাবী চা শ্রমিকদের।
চা শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা অত্যন্ত নিম্নমানের কথা উল্লেখ করে চা শ্রমিক নেতা বিজয় হাজরা বলেন, অধিকাংশ চা বাগানের মেডিকেলে রোগীদের জন্য বসার কোন ব্যবস্থা নেই। তিনি বলেন, একজন অসুস্থ চা শ্রমিক মেডিকেলে সিক লিস্টে নাম লেখাতে গেলে দীর্ঘসময় ধরে মেডিকেলের বারান্দায় বসে অপেক্ষা করতে হয়। রোগীদের জন্য স্যালাইন, নাপা, ইসটাসিন, প্যারাসিটামল, মেট্রিক আর কুইনাইন ছাড়া এখানে আর কোন ওষুধ পাওয়া যায় না।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের অর্থ সম্পাদক পরেশ কালিন্দী বলেন, চা বাগানের মেডিকেলগুলোতে কোন জরুরি বিভাগ নেই। সাধারণ রোগীরা ডাক্তার দেখাতে হলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মেডিকেলে যেতে হয়। মারাত্মক কোন রোগীর প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা না দিয়েই তাদেরকে অন্যত্র রেফার্ড করা হয়।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান চা শ্রমিক নেতা প্রেমসাগর হাজরা বলেন, বাগানের ডিসপেনসারিগুলোতে ভালো কোন টেকনিশিয়ান নেই। অধিকাংশ বাগানেই এলএমএএফ বা কম্পাউন্ডারের মাধ্যমে চলে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম। তাছাড়াও উপজেলার ৫/৬টি বাগানের জন্য একজন করে এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োজিত থাকলেও তিনি প্রতিদিন সব বাগানে সময় দিতে পারেন না।
এদিকে চা বাগান এলাকায় যক্ষ্মা ও মাতৃমৃত্যুর ঝুঁকি সবচেয়ে বেশী উল্লেখ করে মৌলভীবাজারে সিভিল সার্জন ডা. সত্যকাম চক্রবর্তী বলেন, চা শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নের জন্য স্বাস্থ্যসেবা খাতে প্রশিক্ষিত জনশক্তি বাড়াতে হবে। তাছাড়া চা-বাগানে জন্মনিয়ন্ত্রণ ও প্রসবকালীন পরিকল্পনার অভাব রয়েছে। এ ক্ষেত্রে পরিবার পরিকল্পনার বিষয়টি নিশ্চিতকরণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। চা-বাগানে মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবায় সরকার পঞ্চায়েত, শ্রমিক প্রতিনিধি, মালিকপক্ষ ও ইউপি জনপ্রতিনিধির সমন্বয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে।
ইত্তেফাক/এসএস