‘বিড়ি শিল্পকে অবিলম্বে কুটির শিল্প ঘোষণার দাবি’

ভারতের চেয়ে বাংলাদেশে বিড়ির উপর শুল্ক ১৮ গুণ বেশি। ভারতে যেখানে এক হাজার বিড়িতে শুল্ক মাত্র ১৪ টাকা সেখানে বাংলাদেশে এক হাজার বিড়িতে শুল্ক ২৪৭.৫০ টাকা। এ ছাড়া ভারতে যেসব কারখানা বছরে ২০ লাখ স্টিকের নিচে বিড়ি তৈরি করে তাদেরকে কোন শুল্ক দিতে হয় না। অপরদিকে বাংলাদেশে যে কোন পরিমাণ বিড়ি তৈরির জন্য শুল্ক দিতে হয়। ভারতে যেখানে বিড়ি শিল্পকে কুটির শিল্প হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে সেখানে বাংলাদেশে বিড়ির উপর দফায় দফায় শুল্ক আরোপ করে এ শিল্পকে ধ্বংসের পায়তারা চলছে। 
 
শনিবার দুপুরে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত এক সমাবেশে বিড়ি শ্রমিকরা পাশ্ববর্তী দেশ ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বৈষম্যের এসব চিত্র তুলে ধরেন। ‘শুল্কনীতির বৈষম্যে বিড়ি শ্রমিক এবং বিড়ি শিল্প’ সমাবেশটি যৌথভাবে আয়োজন করে বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশন এবং গবেষণা ও উন্নয়ন কালেকটিভ।
 
বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশন সভাপতি আমিন উদ্দিনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বাংলাদেশ ওয়ার্কাস পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশাহ বলেন, অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে আমি দুর্নীতির গন্ধ পাচ্ছি, কারণ বার বার তিনি বিএটিবি কে সুযোগ দিচ্ছেন। এক আগে প্রধানমন্ত্রী যে প্রস্তাব বাতিল করেছেন সেটি একই সংসদে এক বছরের মাথায় আবার ফিরিয়ে এনেছেন, এর সঙ্গে দুর্নীতির সম্পর্ক রয়েছে। তিনি বিড়িকে দেবেন তিন বছর আর সিগারেটকে দিবেন ২২ বছর তা মেনে নেয়া হবে না। বিড়ি শিল্প রক্ষায় তিনি সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোলার আহবান জানান। 
IMG0
একই অভিমত ব্যক্ত করে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য নাজমুল হক প্রধান বলেন, বিড়ি শ্রমিকদের বিকল্প কর্মসংস্থান না করে কোন সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে না। 
 
গবেষণা ও উন্নয়ন কালেকটিভের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ড. মেসবাহ কামাল বলেন, অর্থমন্ত্রী সাম্প্রতিক এক চিঠিতে বলেছেন, সিগারেট কে সময় দিয়েছেন ২০৩৮ সাল পর্যন্ত আর যারা উদয়াস্ত পরিশ্রম করে তাদেরকে দেয়া হয়েছে ৩ বছর এটি কোনভাবেই মানা হবে না। বিড়ি ও সিগারেটকে একই সময় দিতে হবে। আগামী এক মাসের মধ্যে অর্থমন্ত্রী তার তিন বছরে বিড়ি বন্ধের ঘোষণা প্রত্যাহার না করেন তাহলে ঢাকায় আরো বৃহত্তম সমাবেশ করা হবে। 
 
এ সময় আরো বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ফজলুল হক, বিড়ি শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি বিজয় কৃষণ দে, গবেষণা ও উন্নয়ন কালেকটিভের সাধারণ সম্পাদক জান্নাত-এ-ফেরদৌসী, বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এমকে বাঙ্গালী, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমানসহ শ্রমিক নেতৃবৃন্দ। সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক হারিক হোসেন।
IMG1
দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নাসির বিড়ি, রশিদা বিড়ি, বিউটি বিড়ি, কারিকর বিড়ি, আনছার বিড়ি, বেঙ্গল বিড়ি, আবুল বিড়ি, আকিজ বিড়ি সহ বিভিন্ন বিড়ি কোম্পানির প্রায় ৫০ হাজার শ্রমিক এই মহাসমাবেশে অংশ নেন। 
 
সমাবেশে বিড়ি শিল্পকে কুটির শিল্প ঘোষণা করে নিম্নতম মজুরি ১০০ টাকা করার দাবি জানিয়েছে বিড়ি শ্রমিকেরা। সেইসঙ্গে বিড়ি শিল্প তিন বছরের মধ্যে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত বাতিল করে সিগারেট শিল্পের ন্যায় আগামী ২০ বছরের প্রকল্পের আওতায় আনার দাবি সমাবেশে তোলা হয়। 
 
সমাবেশে বক্তারা বলেন, সরকার দফায় দফায় শুল্ক বাড়িয়ে বিড়ি শিল্প বন্ধ করারা পায়তারা করছে অথচ কোন সরকারি কর্মকর্তা কখনো কোনদিন বিড়ি শ্রমিকের কাছে যায় নি। তারা কত কষ্ট করে দিনযাপন করে সে খোঁজ কেউ নেয়নি। আমরা তো আর কোন কাজ জানি না। কিন্তু বিড়ি শিল্প বন্ধ করা হলে এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত ৫০ লাখ মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।