গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সরকার দলীয় এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যা মামলার বাদী ফাহমিদা বুলবুল কাকুলীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন আদালত। রবিবার দুপুরে গাইবান্ধা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক রাশেদা সুলতানা তার সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
এসময় মামলার প্রধান আসামি একই আসনের জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি কর্নেল (অব.) ডা. আব্দুল কাদের খানসহ অন্য আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এরআগে, এ মামলায় দুই দফায় সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ পরিবর্তন করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, রবিবার দুপুরে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য মামলার বাদী ফাহমিদা বুলবুল কাকুলীকে আদালতে উপস্থিত করা হয়। পরে দীর্ঘ সময় বিচারক তার সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
সাক্ষ্য গ্রহণের সময় মামলার বাদী বলেন, প্রধান আসামি কর্নেল (অব) ডা. আব্দুল কাদের খানসহ অন্য আসামিরা তার ভাইকে হত্যা করেছেন। তিনি হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত ঘটনা তুলে ধরাসহ অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এ মামলার পরবর্তী ধার্য্য তারিখ থেকে অন্য সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘এমপি লিটন হত্যা মামলায় ছোট বোন ফাহমিদা বুলবুল কাকুলীর দায়ের করা মামলায় গত ৭ ফেব্রুয়ারি সাবেক এমপি আব্দুল কাদের খানসহ আট আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেছেন আদালত। চার্জ গঠনের পর বিচারক সাক্ষ্য গ্রহণের গত ১৮ মার্চ দিন ধার্য্য করেন। কিন্তু ধার্য্য দিনে মামলার প্রধান আসামি আব্দুল কাদের খান অসুস্থ হয়ে পড়ায় সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়নি। পরে বিচারক গত ২ এপ্রিল সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য্য করেন। কিন্তু সেদিনেও সাক্ষ্য গ্রহণ সম্ভব না হওয়ায় ৮ এপ্রিল সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ধার্য্য করেন বিচারক।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শাহবাজ (মাস্টারপাড়া) গ্রামে নিজ বাড়িতে আততায়ীর গুলিতে নিহত হন মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন। এ ঘটনায় লিটনের বোন ফাহমিদা বুলবুল কাকুলী বাদী হয়ে অজ্ঞাত ৪/৫জনকে আসামি করে সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে ২০১৭ সালের ৩০ এপ্রিল একই আসনের (জাপা) সাবেক এমপি কর্নেল (অব) ডা. আব্দুল কাদের খানসহ ৮জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ।
চার্জশিটভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন, স্থানীয় সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা চন্দন কুমার, কাদের খানের পিএস শামছুজ্জোহা, তার ব্যক্তিগত গাড়ি চালক আব্দুল হান্নান, ভাড়া করা কিলার মেহেদী হাসান, শাহীন মিয়া, রানা মিয়া ও কসাই সুবল চন্দ্র। আসামিদের মধ্যে চন্দন কুমার পলাতক ও বাকী আসামিরা কারাগারে আছেন।
ইত্তেফাক/আরকেজি