আশুলিয়ায় সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দুই পরিবারের দগ্ধ ৭

সাভার উপজেলার আশুলিয়ার ভাদাইল এলাকায় একটি বাসাবাড়িতে গ্যাসের সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় দুই পরিবারের ৭জন দগ্ধ হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
 
রবিবার ভোররাতে ভাদাইল এলাকার অধ্যাপক শেখ মোহাব্বত আলীর মালিকানাধীন আয়শা লজ নামক তিন তলা ভবনের নিচতলার একটি ফ্ল্যাটে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
 
দগ্ধরা হলেন, আশুলিয়ার পুরাতন ডিইপিজেডের এ্যাক্টর স্পোর্টি কারখানায় সুপার ভাইজার মো. আলমগীর (৩৭), তার স্ত্রী স্থানীয় ঢাকারিয়া গার্মেন্টসের অপারেটর আফরোজা বেগম (৩২) এবং ছেলে স্থানীয় হাজী নুরুল হক একাডেমির ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র আলামীন। তাদের বাড়ি বগুড়া জেলার শেরপুর থানার বাগড়া হঠাৎপাড়া গ্রামে।
 
বাকীরা হলেন, বগুড়ার সাড়িয়াকান্দি থানার রৌহাদহ গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে আব্দুল রাজ্জাক (৪৩), তার মেয়ে রাথিয়া (১৮) ও রাবেয়া (১৬) এবং শেরপুর থানার বোয়ালকান্দি গ্রামের মৃত আবুল কালামের স্ত্রী মোসা. আসমা বেগম (৪৫)।
 
এলাকাবাসী জানায়, আলমগীর ও তার স্ত্রী আফরোজা খাতুন ছেলে আলামিনকে নিয়ে ওই বাড়ির নিচ তলায় একটি ফ্ল্যাট বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। ভোর রাতে আলমগীরের স্ত্রী আফরোজা খাতুন গ্যাসের চুলায় আগুন ধরাতে যান। এসময় গ্যাসের লাইনে লিকেজ থাকায় ওই ঘরে আগুন লেগে যায়। মুহুর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়লে ওই ঘরে থাকা একটি গ্যাস সিলিন্ডার বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। এতে ওই ঘরে থাকা আলমগীর, তার স্ত্রী আফরোজা খাতুন ও ছেলে আলামিন মারাত্মক দগ্ধ হন। পরে স্থানীয়রা তাদের গুরতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
 
এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবির পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) প্রধান ডা. রেজাউল হক পিকে জানান, আফরোজা ও আলামিনের শরীরের অর্ধেকের বেশি অংশ পুড়ে গেছে। তাই আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদেরকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।
 
এদিকে বিস্ফোরণের ফলে ভবনটিতে ফাটল দেখা দেয়ায় সেখানকার বাসিন্দাদের অন্যত্র সড়িয়ে নিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এঘটনায় স্থানীয় ধামসোনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভবনটি পরিত্যাক্ত ঘোষণা করেছেন। 
 
ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আব্দুল হামিদ বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে গ্যাস লাইনে লিকেজ ও সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কারণে আগুনের সূত্রপাত ঘটেছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছার পূর্বেই আগুন নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।
 
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আউয়াল বলেন, অগ্নিকাণ্ডের খবর শুনে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি