গোপালগঞ্জে চলছে অনির্দিষ্টকাল বাস ধর্মঘট

গোপালগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনার পর বাস পোড়ানোর প্রতিবাদে ও মহাসড়কে অবৈধ যান চলাচল বন্ধের দাবিতে জেলার আভ্যন্তরীণ রুটে অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট চলছে। আজ সোমবার ভোর ৬টা থেকে এ বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
 
গোপালগঞ্জ জেলা বাস মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ এ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। অন্যদিকে গতকাল রবিবার রাতে পুলিশের কাজে বাধা ও গাড়ি পোড়ানোর ঘটনায় ৭ থেকে ৮শ' অজ্ঞাত ব্যক্তির নামে মামলা করেছে গোপালগঞ্জ সদর থানা পুলিশ। ধর্মঘটের ফলে এ সব রুটে চলাচলকারী যাত্রীরা চরম বিপাকে পড়েছেন। ইজিবাইক, ভ্যান-রিকশা অথবা পায়ে হেঁটে অতিরিক্ত টাকা ও সময় ব্যয় করে তাদের গন্তব্যে পৌঁছুতে হচ্ছে। অনেকেই আবার কর্মস্থলে যেতে না পেরে বাড়ি ঘরে ফিরে গেছেন।
 
রবিবার সকালে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোপিনাথপুরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি লোকাল বাস খাদে পড়ে গোপালগঞ্জ চন্দ্রদিঘলিয়া পলিটেকনিকের এক শিক্ষার্থীসহ দুইজন নিহত হন। এ ঘটনায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে ওই পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীরা কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করে। এছাড়া দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়।
 
রবিবার সন্ধ্যায় গোপালগঞ্জ পুলিশ লাইনস বাসস্ট্যান্ডে জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুশফিকুর রহমান লিটন, সাবেক সভাপতি ইলিয়াস হোসেন, জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জাসু শেখ বক্তব্য রাখেন।
 
সমাবেশে বক্তারা অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়ে বলেন, মহাসড়কে অবৈধ যান চলাচল করছে। অধিকাংশ দুর্ঘটনার জন্য অবৈধ যানবাহনই দায়ী। গোপালগঞ্জে বিগত কয়েক মাস ধরে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটলেই বাসে আগুন দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু পুলিশ কোনো মামলা নিচ্ছে না। অবৈধ যান চলাচল বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত জেলার সব রুটে পরিবহন ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে। সেইসঙ্গে আগামী তিনদিনের মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার সমিতিকে চিঠি দিয়ে ধর্মঘটে আনা হবে।
 
গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, পুলিশের কাজে বাধা, বেশ কিছু গাড়ি ভাঙচুর ও গাড়ি পোড়ানোর ঘটনায় ৭ থেকে ৮শ' অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
 
উল্লেখ্য, রবিবার সকালে সদর উপজেলার গোপিনাথপুরে বাস দুর্ঘটনায় পলিটেকনিকাল কলেজের ছাত্র নিহত হয়। পরে এ ঘটনার জেরে ওই কলেজের শিক্ষার্থীরা ও স্থানীয়রা বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
 
ইত্তেফাক/এসএস