তিস্তাসহ ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে লংমার্চ

 
তিস্তাসহ ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে এবং সরকারের নতজানু নীতির প্রতিবাদে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) ৭-৯ এপ্রিল ২০১৮ ঢাকা-তিস্তা ব্যারেজ অভিমুখে রোডমার্চ শুরু হয়েছে।
 
গত শনিবার বেলা ১১টায় ঢাকা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে রোডমার্চের উদ্বোধন করেন বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান। ওইদিন বগুড়ায় রাত্রিযাপন শেষে গোবিন্দগঞ্জ, পলাশবাড়ী, গাইবান্ধা, দাড়িয়াপুর, সুন্দরগঞ্জ ও পীরগাছা হয়ে গতকাল রবিবার রংপুরে পৌঁছে রোডমার্চটি। এর মধ্যে বিভিন্ন পয়েন্টে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। আজ সোমবার সকাল ১০টায় রংপুর প্রেসক্লাবের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ এবং নগরীর প্রধান সড়কে মিছিল শেষে তিস্তা ব্যারেজ অভিমুখে যাত্রা করে রোডমার্চটি।
 
পথে মেডিকেল মোড়, পাগলাপীর, বড়ভিটা, জলঢাকায় পথসভা করে ডিমলার চাপানিরহাটে সমাপনী সমাবেশ করবে নেতাকর্মীবৃন্দ। রংপুর জেলা বাসদের সমন্বয়ক কমরেড আব্দুল কুদ্দুসের সভাপতিত্বে প্রেসক্লাবের সামনের সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ, কমরেড জাহেদুল হক মিলু, কমরেড রাজেকুজ্জামান রতন, জেলা বাসদের সদস্যসচিব মমিনুল ইসলাম প্রমুখ। সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন, রংপুরের সর্বজন শ্রদ্ধেয় প্রবীণ জননেতা মোহাম্মদ আফজাল, সিপিবি’র জেলা সাধারণ সম্পাদক কমরেড শাহীন রহমান, নদী বাঁচাও তিস্তা বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম হক্কানী, মহানগর জাসদের সভাপতি গৌতম রায়, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় ও জেলার নেতা অশোক সরকার প্রমুখ।
 
কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, ভারত আন্তর্জাতিক নদী আইন লঙ্ঘন করে তিস্তাসহ ৫৪টি নদীর উজানে বাঁধ দিয়ে একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহার করে নিয়ে বাংলাদেশকে পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত করছে। এর ফলে উত্তরবঙ্গ প্রতি বছর কৃষিতে কোটি কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে এবং এই এলাকা মরুকরণ প্রক্রিয়ার হুমকির মুখে। তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যাসহ ভারত থেকে আগত সকল আন্তর্জাতিক নদীর পানির বণ্টনের বিষয়টি ভারত সরকার বিভিন্ন অজুহাতে ঝুলিয়ে রেখেছে। একইভাবে বর্তমান সরকারসহ অতীতের সকল সরকার নির্লজ্জভাবে দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে ভারতের প্রতি নতজানু থেকে কার্যত ভারতের আগ্রাসী পানিনীতিকে সমর্থন যুগিয়েছে। রংপুরের সমাবেশ থেকে নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিতের জোর দাবি জানান।
 

ইত্তেফাক/এএম