ঘাটাইল উপজেলার অধিকাংশ রাস্তারই এখন বেহাল দশা। রাস্তাগুলো দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করাতে সাধারণ জনগণের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। কিছু কিছু গ্রামীণ সড়ক পাকা করা হলেও অতিরিক্ত মাল বোঝাই ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে উপজেলার অভ্যন্তরীণ অধিকাংশ গ্রামীণ সড়ক যানবাহন চলাচলের সম্পূর্ণভাবে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। গ্রামীণ এ রাস্তাগুলো বারবার সংস্কার করা হলেও সড়কগুলো দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে না। রাস্তাগুলোতে খানা-খন্দক থাকায় যানবাহন চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম জনদুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। গ্রামীণ সড়কে ১০ টনের বেশি মালামাল বহন করার বিধি-নিষেধ থাকলেও আইন মানার ও প্রয়োগের কোনো বালাই নেই স্থানীয় প্রশাসনের। ২৫/৩০ টনের মালবাহী ট্রাক অবাধে চলাচল করলেও এ ব্যাপারে কারো মাথাব্যথা নেই।
ঘাটাইল উপজেলা প্রকৌশলী অফিসসূত্রে জানা যায়, ঘাটাইলে পাকা সড়ক রয়েছে প্রায় ২৮০ কিলোমিটার। এর মধ্যে উপজেলা সড়ক প্রায় ১১০ কিলোমিটার, ইউনিয়ন সড়ক প্রায় ৬২ কিলোমিটার, গ্রামীণ সড়ক-এ ক্যাটাগরির প্রায় ৯০ কিলোমিটার, গ্রামীণ সড়ক-বি ক্যাটাগরির প্রায় ২০ কিলোমিটার।
দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় ও মালবাহী ট্রাকসহ ভারী যানবাহন ও মাটিবাহী পিকআপ ট্রাক বেপরোয়াভাবে চলাচলের কারণে এসব সড়ক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। অধিকাংশ গ্রামীণ সড়কের বেহাল দশা, সড়কগুলোতে খানা-খন্দের সৃষ্টি হয়ে যান চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। অনেক গ্রামীণ পাকা সড়ক দেখে বোঝার কোনো উপায় নেই এই সব সড়ক এক সময় পাকা ছিল।
উপজেলা সড়ক ও ইউনিয়ন সড়কের মধ্যে উপজেলার ঘাটাইল-সাগরদিঘি-ভরাডোবা সড়কে ৪০ কিলোমিটার, জামুরিয়া-ছুনটিয়া-ভূয়াপুর সড়কের ২০ কি.মি., মোগলপাড়া-সিংগুরিয়া সড়কের ১০ কি.মি. চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ঘাটাইল-সাগরদিঘি-ভরাডোবা সড়কের ধলাপাড়া থেকে গুপ্তবৃন্দাবন পর্যন্ত সড়কটি এবং ঘাটাইল-ছুনটিয়া-ভূয়াপুর সড়কের অবস্থা বেশি খারাপ। এসব রাস্তার খানা- খন্দে পড়ে প্রতিদিন মালবাহী ট্রাক-বাস ও অটোরিকশা বিকল হয়ে যানজটের সৃষ্টি করছে। গুনগ্রাম-সন্ধানপুর সড়কের পাশে গড়ে উঠেছে ৮/১০টি ইটভাটা। এই রাস্তায় প্রতিদিন ২৫/৩০ টন মালামাল নিয়ে চলছে শত শত ট্রাক। ভাটায় মাটি পরিবহনের জন্য মিনি ট্রাক চলছে লাইন ধরে। এ সড়কের কিছু অংশ গত বছর মেরামত করলেও এক বছরের মাথায়ই আবার ভেঙে খানা-খন্দের সৃষ্টি হয়েছে। সাগরদিঘি থেকে তালতলা যাওয়ার পাকা সড়কটি দেখলে এখন আর মনে হবে না এটি এক সময় পাকা সড়ক ছিল। পোড়াবাড়ি-গারোবাজার ৩০ কি.মি. সড়কটি পাকাকরণের কাজ সম্প্রতি শেষ হয়েছে। সড়কটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়নি। কিন্তু ইতোমধ্যেই সড়কটির বিভিন্ন স্থান ডেবে গেছে এবং খানা-খন্দের সৃষ্টি হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী এ কে এম হেদায়েত উল্লাহ বলেন, সরকারি বিধিমালা মেনে না চলায় সড়কগুলোর এমন বেহাল দশার সৃষ্টি হয়েছে। জনদুর্ভোগ দূর করতে সড়কগুলো সংস্কার জরুরি। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পেলেই এ সব সড়কের সংস্কার কাজ করা হবে।
ইত্তেফাক/নূহু