বাংলাদেশ ইয়থ লিডারশিপ সেন্টারের (বিওয়াইসিএল) প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি ইজাজ আহমেদ চলমান কোটা সংস্কার নিয়ে বিতর্ক প্রসঙ্গে ফেসবুক লাইভে বলেছেন, আজকে বাংলাদেশে তরুণদের মধ্যে যে সবচেয়ে বড় ইস্যু- কোটা সংস্কার, সেটা নিয়ে আমি কিছু কথার জন্য এসেছি। বাংলাদেশের অনেক ছাত্র যারা এখান থেকে বেরিয়ে গেছে, সরকারের জন্য কাজ করছে তারা সিভিল সার্ভিসে আছে, তারা জুডিশিয়ারিতে আছে, তারা ডিফেন্সে আছে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে, দেশের বিভিন্ন জায়গায় তারা কাজ করছে। তার জন্য এই ইস্যুটা ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্ট যারা আমাদের প্রগ্রামে বর্তমানে কোর্স করছে তাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই ফেসবুক লাইভে এ নিয়ে বলতে এসেছি।
তিনি বলেন, প্রথমে আমি বলতে চাই গত দুইদিন ধরে দেখতে পাচ্ছি আমাদের যারা স্টুডেন্ট আছে তারা একটা আন্দোলন করতে গিয়ে যে সংঘর্ষ, একটা ভায়োলেন্ট হচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সেটা মনে হয় খুবই অনাকাঙ্খিত আমাদের সমাজের জন্য। একটা গণতান্ত্রিক দেশে সবারই মতামত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার আাছে অহিংসভাবে প্রতিবাদ করা। প্রত্যেকটা নাগরিকের সে অধিকারটা দিতে হবে। আমি তীব্র আচরণ জানাই, ছাত্রদের সঙ্গে যে আচরণটা করা হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেটা দেখতে পেয়েছি। সেটার জন্য আমি তীব্র নিন্দা জানাই।
আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফেসবুক লাইভে এসে ইজাজ আহমেদ আরও বলেন, একইসাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গত রাতে ভাইস চ্যান্সেলরের বাসভবনে যে ভাংচুর হয়েছে সেটার জন্যও আমি খুব শক্তভাবে নিন্দা জানাই। এটা একদমই আমাদের সমাজের জন্য কাম্য নয়। এটা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, সমাজ যদি শিক্ষককে মূল্যায়ন করতে না পারে তবে আমরা সামনে কীভাবে এগিয়ে যাবো। আমাদের অবশ্যই শিক্ষকদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে হবে, বড়দের সম্মান করতে হবে। গত রাতে যা ঘটেছে তার বিচারের আওতায় আনতে হবে।
তিনি বলেন, এখন কোটা সংস্কার নিয়ে যে কথা হচ্ছে তা নিয়ে বলতে চাই, সারফেস লেভেলে আমার মনে হয় এটা পজেটিভ বিষয়। কারণ কোটার মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত করতে পারি, যারা নাকি ট্রেডিশনালি অবহেলিত, সুবিধা বঞ্চিত, তাদেরকে আমরা কিভাবে সামনে নিয়ে আসতে পারি। লক্ষ্যটা হচ্ছে সম-সুবিধা দেওয়া। অর্থনৈতিকভাবে অবহেলিত তাদের জন্য সুবিধা তৈরি করে দেওয়া।
তিনি বলেন, কোটায় এখন যে নারীদের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে সেটাই হওয়া উচিত এবং এটা পজেটিভ দিক। সেটা সরকার করছে। আমাদের যে ভৌগোলিক বৈচিত্র্যটা দরকার, আমাদের ধর্মীয় স্বাধীনতা দরকার। যারা সংখ্যালঘু আছে তাদেরকেও তো সরকারের জন্য কাজ করতে হবে। তবেই তো আমরা একটা সামগ্রীক বাংলাদেশ পাবো। তরুণরা সংস্কার নিয়ে যে ব্যাপারটা বলছে, সেটা হলো- বর্তমান মুক্তিযোদ্ধা কোটা যে ৩০ শতাংশ আছে সেটা কী সহনীয়, সেটা এখন বাংলাদেশে কতটা সঠিক। সেটা নিয়ে চিন্তা করা যেতে পারে।
তিনি বলেন, সেটার বলার আগে মুক্তিযুদ্ধের প্রতি আমাদের সম্মান প্র্রদর্শন করতে হবে। কারণ একাত্তরে আমাদের বাবা-চাচারা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ করতে না পারতো তাহেলে আজকের স্বাধীন বাংলাদেশে আমরা বাস করতে পারতাম না। আজকে গর্ব করে বলি আমি বাংলাদেশি, বিশ্বের যেকোনো এয়ারপোর্টে আমার সবুজ পাসপোর্টটা তুলে আমি যখন বলি আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি, তখন আমি খুব গর্ববোধ করি। এটা বলতে পারি যারা নিঃস্বার্থভাবে দেশের জন্য যুদ্ধ করেছে। তাদের একটা স্পেশাল অবস্থান আমাদের সমাজে অবশ্যই থাকতে হবে। তাদেরকে মূল্যায়ন করতে হবে। তাদের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞ থাকতে হবে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে আমাদের কি একটাই উপায় তাদের প্রতি সম্মান দেখানোর। আমরা কি তাদের দ্বিতীয় বা তৃতীয় জেনারেশনকে কোটার মাধ্যমে এই পাবলিক সার্ভিসে এনে সম্মান দেখানো কি একমাত্র পথ।
তিনি আরও বলেন, দ্বদন্দ্বটা হচ্ছে- একদিকে হচ্ছে মেধার চর্চা আর একদিকে কোটা বিষয়টাকে গুরুত্ব দেওয়া। প্রধানমন্ত্রী যে উন্নত দেশের স্বপ্ন দেখছেন, সে বাংলাদেশ দেখতে চাইলে মেধার কোনো বিকল্প নেই। পাবলিক সার্ভিস সিলেকশনটা মেধার করতে হবে। এই ধরনের ছেলে-মেয়েরা যখন আসবে তখন বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। এই আন্দোলনটা একদিক দিয়ে পজেটিভ। তারা প্রটেস্ট করছে বাংলাদেশের সেবা করার জন্য। বিদেশ যেতে নয়।
তিনি বলেন, সরকারের কাছে আমার অনুুরোধটা থাকবে, আমরা কি চিন্তা করতে পারি আগামী ১০ বছরের মধ্যে ৩০ শতাংশ কোটা যেটা আছে, ধীরে ধীরে তা কমিয়ে নিয়ে আসা। এর মাধ্যমে নিশ্চিত করতে পারবো যারা মেধাবী, বিসিএসের মাধ্যমে নির্বাচিত হচ্ছে- দেশের জন্য কাজ করতে পারবে।
তিনি শেষে বলেন, পরিবর্তন কোনো কিছুই একদিনে হয় না। তার জন্য ধৈর্য ধরা। নেতৃত্ব মানে নিজের কথা বলা না, এটা হচ্ছে অন্যের অবস্থানটা দেখতে হবে। ব্যবহারে, মূল্যবোধে পরিবর্তন একদিনে হয় না। আমরা একটা সমাধানের মাধ্যমে সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে চাই।
ইত্তেফাক/পাভেল