দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল রাখার দাবিতে মঙ্গলবার মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানেরা। এ বিষয়ে খবর জানিয়েছেন ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাগণ।
পিরোজপুর: মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের চাকরির কোটা নিয়ে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে পিরোজপুরে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের উদ্যোগে এক মানববন্ধন করা হয়েছে। সকালে এ মানববন্ধনে রাজনীতিবিদ, মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং নারীসহ মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানেরা অংশ নেন। এসময় বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আব্দুল হাকিম হাওলাদার, মুক্তিযোদ্ধা গৌতম চৌধুরী, সমীর কুমার দাস বাচ্চু, এম এ রব্বানী ফিরোজ, শহিদুল আলম মন্টু, আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা ও দিলীপ সিকদার, পৌর কাউন্সিলর সাদুল্লাহ লিটন ও শহিদুল ইসলাম সিকদার, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম সিকদার প্রমুখ। পরে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে জেলা প্রশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপিও পেশ করা হয়।
ভোলা: কোটা বাতিলের দাবির বিরুদ্ধে মানববন্ধন, বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। দুপুরে ভোলা প্রেসক্লাবের সামনে ভোলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উদ্যোগে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধনে কয়েকশ মুক্তিযোদ্ধা ও ভোলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের নেতৃবৃন্দ ও সন্তানরা অংশ নেন। ভোলা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন ভোলা সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার অহিদুর রহমান, ভোলা প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক এম এ তাহের, দৈনিক বাংলার কণ্ঠের সম্পাদক এম হাবিবুর রহমান, আমির হোসেন বাচ্চু, মো. ইসমাইল প্রমুখ।
ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন মুক্তিযোদ্ধারা। মঙ্গলবার সকালে এতে জেলার মুক্তিযোদ্ধারা অংশ নেন। পরে তাদের দাবিসম্বলিত স্মারকলিপি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর পেশ করেন। সাবেক জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মকবুল হোসেন বলেন, কোটা সংস্কারের নামে সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের কোটা কোনো অবস্থায় বাতিল করা যাবে না। আর এ ব্যাপারে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
শৈলকুপাতেও মুক্তিযোদ্ধারা বিক্ষোভ মিছিল করেন। তারা মিছিল শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মারফত প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন।
নেত্রকোনা: মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তানেরা। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নেত্রকোনা জেলা ও সদর উপজেলা ইউনিট ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের ব্যানারে সর্বস্তরের মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানেরা ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। এ সময় বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি জেলা সেক্টরস কমান্ডার ফোরামের সভাপতি মো. সামছুজ্জোহা, জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডের সাবেক সভাপতি নুরুল আমিন, ডেপুটি কমান্ডার আব্দুল মতিন খান, আটপাড়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাজী মো. খায়রুল ইসলাম, সদর উপজেলার সাবেক কমান্ডার আইয়ুব আলী, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সভাপতি খায়রুল ইসলাম বাবুল, সাধারণ সম্পাদক গাজী মোর্তুজা হোসেন কামাল, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান তুহিন আক্তার প্রমুখ।
ধোবাউড়া (ময়মনসিংহ) : বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের নেতৃবৃন্দ। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার সকালে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে বাজারের বিভিন্ন রাস্তা প্রদক্ষিণ করে। পরে প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক উপজেলা কমান্ডার মোজাম্মেল হোসাইন, ডেপুটি কমান্ডার মীর ইব্রাহিম, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের উপজেলা সভাপতি আশিকুজ্জামান সুজন, খোকন মণ্ডল প্রমুখ।
আগৈলঝাড়া (বরিশাল): উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উদ্যোগে মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানেরা বিক্ষোভ সমাবেশ করে এবং প্রধানমন্ত্রী রবাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন। মঙ্গলবার সকালে আগৈলঝাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উদ্যোগে উপজেলার তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাগণ, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড পরিবার সদস্যরা উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। সমাবেশে বরিশাল জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সহকারী ইউনিট কমান্ডার আব্দুর রইচ সেরনিয়াবাত ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার আবু তাহের মিয়া বক্তব্য রাখেন।
ত্রিশাল (ময়মনসিংহ): মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানরা এক মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে। এ সময় বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ সেক্টর কমান্ডার ফোরাম মুক্তিযোদ্ধা ’৭১-এর সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম মোমেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাহিদ খান ভোলা, ফজলুল হক, আ. মান্নান, ইব্রাহিম খান, হরমুজ আলী, শাহজাহান প্রমুখ। পরে তারা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন।
রাজাপুর (ঝালকাঠী): মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ, মানববন্ধন এবং প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে স্মারকলিপি দিয়েছেন রাজাপুরের মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের প্রজন্ম। মঙ্গলবার সকালে সমাবেশে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান ও নাতি-নাতনিদের জন্য সংরক্ষিত ৩০ শতাংশ কোটার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা। প্রচলিত কোটা পদ্ধতি বহাল রাখতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বক্তারা। মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সাবেক উপজেলা কমান্ডার মো. শাহ আলম নান্নু, মো. নুরুল ইসলাম খলিফা, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মানিক জমাদ্দার, মো. আলতাফ হোসেন, শাহজাহান মোল্লা, সাইদুল ইসলাম, জয়রাম তেওয়ারী, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড মো. জালাল আহমেদ, মো. নজরুল ইসলাম মো. সজল শরীফ প্রমুখ।
কাঠালিয়া (ঝালকাঠি): মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড মানববন্ধন করেছে। ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এসময় বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান মো. গোলাম কিবরিয়া সিকদার, ইউপি চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন, ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদ হোসেন রিপন, ইউপি চেয়ারম্যান শিশির দাস, ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান লিটন, জেলা পরিষদের সদস্য মো. আমিরুল ইসলাম লিটন সিকদার, সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নুরুল হক চাঁন জমাদ্দার, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মহসিন নকিব, মোসা. শাহানা সিদ্দিকা, মো. আলমগীর হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান প্রেসক্লাব সভাপতি সিকদার মো. কাজল, জেলা পরিষদ সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের উপজেলা সভাপতি মো. শাখাওয়াত হোসেন অপু ও মো. মাইনুল হোসেন উজ্জল প্রমুখ।
ঝালকাঠি: ঝালকাঠিতে মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ, মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবার এ দাবি বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে স্মারকলিপি দিয়েছে। এ মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা দুলাল সাহা, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তরুণ কর্মকার, মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম নান্না ফকির প্রমুখ।
গফরগাঁও (ময়মনসিংহ): মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ করেছেন গফরগাঁওয়ে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে সহকারী কমিশনার আশরাফুল সিদ্দিক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পক্ষে স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা সলিম উল্লাহ মোস্তফা, আব্দুস সালাম বাঙ্গালী, সিরাজ উদ্দিন, মীর এমদাদুল হক বুলবুল, মফিজ উদ্দিন, রইস উদ্দিন, আজিম উদ্দিন, জহুর উদ্দিন, মোয়াজ্জেম হোসেন, নূরুল হুদা, আব্দুল হামিদ, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান আব্দুল্লাহ আল আমিন বিপ্লব প্রমুখ।
ইত্তেফাক/নূহু