লক্ষ্য ছিল নিজের সেরাটা দেয়ার: শাকিল

প্রত্যাশাটা আগেই মনের গভীরে পুষে রেখেছিলেন বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের (বিওএ) মহাসচিব সৈয়দ সাহেদ রেজা। বলেছিলেন একাধিক পদক জয়ের প্রত্যাশার কথা। 
 
পিছিয়ে ছিলেন না বাংলাদেশ শ্যূটিং স্পোর্টস ফেডারেশনের মহাসচিব ইন্তেখাবুল হামিদ অপু। ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে আবদুল্লাহ হেল বাকীর পদক প্রাপ্তির পর তিনি বাসসকে বলেছিলেন, ‘এ পদক জয়ের মাধ্যমে আমাদের একটি প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। এই জয়টি পরবর্তী লড়াইয়ের বাংলাদেশের অন্য শ্যূটারদের মনোবলকে সুদৃঢ় করবে।’ মুখে এমনটা বললেও তার চোখে মুখে বলছিল অন্য কথা। সেটি ছিল আরো একাধিকপদক প্রাপ্তির প্রত্যাশা।
 
অপুর প্রত্যাশা আমুলক ছিল না। বাকী অল্পের জন্য স্বর্ণ পদক থেকে বঞ্চিত হবার পর বাংলাদেশ দলের মহিলা শ্যূটার উম্মে জাকিয়া সুলতানাকে নিয়ে আশা ছিল। পদেকের অনেক কাছে গিয়েও শেষ পর্যন্ত ছিটকে পড়েন তিনি। মেয়েদের ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে ৪১০.৫ পয়েন্ট নিয়ে ফাইনাল রাউন্ডে ঠাই পাওয়া জাকিয়া মাত্র মাত্র ৩.৩ পয়েন্টের জন্য পদক বঞ্চিত হন। ফাইনালে তিনি ২০২.০ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থান লাভ করেছিলেন। 
 
এরপর এস এ গেমসে ৫০ মিটার পিস্তল ইভেন্টে স্বর্ণপদক বিজয়ী শাকিল আহমেদকে ঘিরে বাংলাদেশ দল নতুন স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। অপু বলেন, ‘আমরা এখনই কিছু বলে তাদের ওপর চাপের বোঝা চাপিয়ে দিতে চাই না। তবে আশাবাদী। আশা করছি আমাদের পদক প্রাপ্তির তালিকাটা আরো একটু বড় হবে।’
 
অপুর কথা মতো দেশের পদকের তালিকা আরো একটু প্রলম্বিত হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় ২৮ বছর পর কমনওয়েলথ গেমসের ৫০ মিটার পিস্তল থেকে বাংলাদেশকে আরেকটি রৌপ্য পদক এনে দিয়েছেন ২২ বছরের তরুন শ্যূটার শাকিল।
 
এমন একটি সফলতার পর আনন্দিত শাকিল সাংবাদিকদের কাছে নিজের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘এমন অর্জনে অবশ্যই ভাল লাগছে। বাংলাদেশ থেকে ভাল প্রস্তুতি নিয়ে এখানে এসেছিলাম। আমার লক্ষ্য ছিল পদক যাই হোক, নিজের সেরা স্কোরটা অব্যাহত রাখা। দলের প্রত্যেকেই তাদের সেরা স্কোর করেছে। কারণ এবার আমাদের প্রস্তুতি খুব ভাল ছিল।’
 
এক দিন আগে ১০ মিটার এয়ার পিস্তলে খুব একটা সুবিধা করতে না পারলেও সেখানেও নিজের ভাল পারফর্মেন্স ছিল দাবী করে শাকিল বলেন, ‘আমার ১০ মিটার এয়ার পিস্তলেও ভাল পারফরমেন্স ছিল। কিন্তু ফাইনালের কথা আগে কিছুই বলা যায় না। তারপরও আমি চেষ্টা করেছি। কিন্তু ৫০মিটার পিস্তল আমার আসল ইভেন্ট। আশা করেছিলাম এখানে ভাল কিছু করবো। এখানে যেটা চেয়েছি সেটাই করতে পেরেছি। বাছাইপর্বে ও ফাইনালেও। অনুশীলনে সবসময় যেটা মারি সেটাই মেরেছি।’
 
শাকিল বলেন, ‘দীর্ঘ দিন আমাদের এসএ গেমসেও পদক ছিল না। আমি ২০১৬ সালে প্রথম স্বর্ণপদক জয় করেছি। তখন থেকেই লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলাম কমনওয়েলথ গেমসকে। সেভাবেই প্রস্তুতি শুরু করি। লক্ষ্য ছিল ভাল কিছু করা। ফেডারেশন থেকে সবধরনের সাহায্য সহযোগিতা পেয়েছি। যা চেয়েছি তাই পেয়েছি। বাংলাদেশ আর্মিও (নিজের দল) আমাকে সহায়তা দিয়েছে। ফেডারেশনের মহাসচিব সহ আমার অন্য সতীর্থরাও আমাকে সমর্থন যুগিয়েছে। তাদের কাছেও আমি কৃতজ্ঞ।’
 
উল্লেখ্য, ১৯৯০সালে অনুষ্ঠিত অকল্যান্ড কমনওয়েলথ গেমসে এয়ার পিস্তল থেকে বাংলাদেশকে প্রথমবারের মত স্বর্ণপদক এনে দিয়েছিলেন আতিকুর রহমান ও আবদুস সাত্তার নিনি। এটিই ছিল এই গেমসে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম পদক। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০২ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে অনুষ্ঠিত গেমসে এয়ার রাইফেল ইভেন্ট থেকে লাল সবুজদের শিবিরে স্বর্নপদক এনে দেন আসিফ হোসেন। ২০০৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত গেমসে বাংলাদেশ দলগত ভাবে রৌপ্য এবং ২০১০ সালে ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত গেমসে দলগত ব্রোঞ্জ পদক জয় করে।
 
সর্বশেষ ২০১৪ সালে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো নগরীতে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ গেমসে এই শ্যূটিং থেকেই বাংলাদেশকে রৌপ্য পদক এনে দেন আবদুল্লাহ হেল বাকী।
 
ইত্তেফাক/কেআই