ভিসির বাসায় হামলাকারীরা পেশাদার : ডিএমপি কমিশনার

ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার (ডিএমপি) আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বাসার আক্রমণকারীরা পেশাদার। তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। 
 
বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিন্টো রোডের ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ সব কথা বলেন। এ সময় তিনি পহেলা বৈশাখে ( বাংলা নববর্ষ) পুলিশের করণীয় এবং  প্রস্ততি  সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন। 
 
পহেলা বৈশাখে কোনো নিরাপত্তা হুমকি নেই জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, এদিন গোটা রাজধানী কড়া নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেয়া হবে। বৈশাখের সব অনুষ্ঠানস্থল ধূমপানমুক্ত রাখতে নিরাপত্তাকর্মীরা কাজ করবে। এর জন্য অনুষ্ঠানস্থলে ডিএমপির মোবাইল কোর্ট থাকবে। কেউ অনুষ্ঠানস্থলে ধূমপান করলে সেখানে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়া হবে। 
 
ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ঢাবির ভিসি স্যারের বাড়িতে হামলাসহ গত তিন দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যা হয়েছে তা অনাকাংক্ষিত। যে কায়দার ভাঙচুর করা হয়েছে, যে মাত্রায় ভাঙচুর করা হয়েছে, সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে, হার্ড ডিস্কের বক্স ভেঙে দিয়েছে এতে বোঝা যায় হামলাকারীরা পেশাদার। তবে কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
 
মামলার ব্যাপারে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, মামলা হয়েছে, মামলার তদন্ত চলছে। আমাদের প্রশিক্ষিত মেধাবী কর্মকর্তারা এ মামলাগুলোর তদন্ত করছে। এই তদন্তের সহায়তার জন্য আমাদের ঊর্ধ্বতন অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের নিয়োজিত করা হয়েছে। আমরা প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে, খুঁজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসব। এটি হচ্ছে আমাদের দৃঢ় প্রত্যয়। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।
 
বৈশাখ উদযাপন ঘিরে কোনো সুনির্দিষ্ট হুমকি নেই জানিয়ে ডিএমডি কমিশনার বলেন, বৈশাখের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে শাহবাগ, টিএসসি, রমনা, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, রবীন্দ্র সরোবর, হাতিরঝিলে ডগস্কোয়াড দিয়ে সুইপিং করা হবে। মঙ্গল শোভাযাত্রার নিরাপত্তায় মোতায়েন থাকবে সোয়াট।
 
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি উন্মুক্ত স্থানের অনুষ্ঠানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও কন্ট্রোল রুমে রিয়েল টাইম মনিটরিং করা হবে। জনগণ যাতে নেচে-গেয়ে, হেঁটে বৈশাখী অনুষ্ঠান উদযাপন করতে পারে সেজন্য বাংলামোটর, নীলক্ষেত, পলাশী, চানখারপুলসহ বেশ কয়েকটি সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে যানবাহন প্রবেশ বন্ধ করা হবে। রবীন্দ্র সরোবর, রমনা ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মতো যেসব অনুষ্ঠানস্থলে পানি রয়েছে সেসব স্থানে নৌ-পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল থাকবে।
 
মঙ্গল শোভাযাত্রা যে রুট দিয়ে যাবে সেই রুটের প্রতিটি অলিগলিতে এবং বাড়ির ছাদে পুলিশ মোতায়েন করা হবে। পুলিশের সোয়াট বাহিনী মঙ্গল শোভাযাত্রার চারদিকে বেষ্টনী করবে। শোভাযাত্রায় মাঝপথ থেকে কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। যারা বিভিন্ন মুখোশ ও ফেস্টুন বহন করবে তাদের নামের তালিকা চাওয়া হয়েছে। তারা ব্যতীত কেউ এসব বহন করতে পারবে না। পাশাপাশি মুখোশ বহনকারীরা মুখোশটি মুখের সামনে না রেখে অন্য দিকে রাখবে। মঙ্গল শোভাযাত্রায় কোন ধরনের বাণিজ্যিকীকরণ ব্যানার নিয়ে কাউকে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না। উন্মুক্ত স্থানে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত অনুষ্ঠান করা যাবে (রবীন্দ্র সরোবরে সন্ধ্যা সাতটা)। এরপর সবাই ইনডোরে বৈশাখ উদযাপন করবেন। ১৪ তারিখ পবিত্র শবে মেরাজে মুসল্লিদের ইবাদতে কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটানোরও অনুরোধ জানান ডিএমপি কমিশনার। 
 
ইত্তেফাক/ইউবি