পুলিশি বাধায় সভা করতে পারলেন না উপজেলা চেয়ারম্যান

পুলিশি বাধায় মাসিক সমন্বয় সভা করতে পারলেন না ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবু আশফাক। স্থানীয় প্রশাসনের যোগসাজসে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
 
তবে ওসি বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, বৃহস্পতিবার উপজেলা সদরে পহেলা বৈশাখের বিশেষ মহড়া ছিল। তাকে উদ্দেশ্য করে পুলিশ মোতায়েন করা হয়নি।
 
উপজেলা চেয়ারম্যান খন্দকার আবু আশফাক স্থানীয় সংবাদ কর্মীদের জানান, গত দুই সভায় আমি শারীরিক অসুস্থতায় কারণে অনুপস্থিত ছিলাম। বৃহস্পতিবারের সভায় তার উপস্থিত বাধ্যতামূলক ছিল। সকাল ১১টার দিকে তিনি সভায় যোগ দিতে উপজেলার দিকে আসছিলেন। উপজেলা সদর কায়কোবাদ চত্বরে পৌঁছলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ তার গাড়ির গতিরোধ করে। এসময় তাকে গ্রেফতারের ভয় দেখানো হয়। পরে তাকে সভায় যোগ দিতে বাধা দেয়। বাধ্য হয়ে তিনি ফিরে যান।
 
খন্দকার আবু আশফাক ঘটনাটিকে পরিকল্পিত দাবি করে বলেন, স্থানীয় প্রশাসন পরিকল্পনা করে আমাকে পরিষদের দায়িত্ব থেকে সাময়িক বরখাস্তের ষড়যন্ত্র করেছেন। নবাবগঞ্জের একটি মামলায় আমি উচ্চ আদালতের অন্তবর্তীকালীন জামিনে আছি। এছাড়া আমার বিরুদ্ধে কোন মামলা নেই। জামিনের কাগজ থানায় পাঠানো হলেও গ্রহণের নথি দেয়া হয়নি।
 
উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মহসিন রহমান আকবর জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য উপজেলা ফটক ও কায়কোবাদ চত্বরে অবস্থান নেয়। এসময় নবাবগঞ্জ থানার ওসি মোস্তফা কামাল আমাকে বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান খন্দকার আবু আশফাকের নামে একাধিক মামলা রয়েছে। এখানে আসলে তাকে গ্রেফতার করা হবে। আপনি তাকে সভা কক্ষে আসতে নিষেধ করেন।
 
ওসি মোস্তফা কামাল বাধার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যানকে গ্রেফতারের উদ্দেশ্যেও নয়। বৃহস্পতিবার উপজেলা সদরে পহেলা বৈশাখকে ঘিরে নাশকতার আশঙ্কায় বিশেষ মহড়া ছিল।
 
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তোফাজ্জল হোসেন বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উল্লেখ করে বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যানের উপস্থিতির ব্যাপারে আমি যথেষ্ট আন্তরিক ছিলাম। মোবাইল বন্ধ পেয়ে তার দলের নেতাকর্মীদের মাধ্যমে সংবাদও পাঠানো হয়েছিল। অনুপস্থিতির বিষয়টি একান্তই তার ব্যক্তিগত।
 
ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শাহ্ মিজান শাফিউর রহমান বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তাকে গ্রেফতারের জন্যই পুলিশ উপস্থিত ছিল।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি