সম্প্রতি বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের অভিযাত্রা উদযাপনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ডেপুটি হাই কমিশন মুম্বাই গতকাল রবিবার একটি সেমিনার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের সহযোগী আয়োজক হিসেবে ছিল মুম্বাইয়ের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার।
'ভাইব্র্যান্ট বাংলাদেশ: ট্রানজিশন ফরম এলডিসি স্ট্যাটাস' শীর্ষক সেমিনারটি স্থানীয় ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ভবনের হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের প্রথম অংশে ডেপুটি হাই কমিশনার জনাব মো. লুৎফর রহমান উপস্থিত সকলকে বাংলাদেশের এই গৌরবময় অর্জন সম্পর্কে অবহিত করেন। একটি পাওয়ারপয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে তিনি বলেন, জাতিসংঘের এ ঘোষণার মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে যোগ দিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এভাবেই বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হতে যাচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে এই অভাবিতপূর্ব সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে। সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার-এর ভাইস চেয়ারম্যান শ্রী বিজয় কালান্তারি।
এছাড়াও বক্তব্য উপস্থাপন করেন মুম্বাইয়ের কন্স্যুলার কোরের ডিন জনাব নরবার্ট রেভাই বেরে, মুম্বাইয়ে শ্রীলংকার কনসাল জেনারেল মিজ্ চামারি রডরিগোজ এবং এ.বি ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত সি.ই.ও জনাব মোহাম্মদ আল মামুন। বক্তারা সকলেই উন্নয়নশীল দেশের কাতারে সামিল হবার এ বিষয়টিকে বহির্বিশ্বে গৌরবের ও গর্বের বিষয় হিসেবে তুলে ধরেন। পাশাপাশি তারা আগামী তিন বছর এই ধারাবাহিকতা রক্ষার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
দ্বিতীয় অংশে 'সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট থ্রো ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ইন বাংলাদেশ' শীর্ষক একটি আলোচনা পর্বে বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণ অর্থের বিনিয়োগকারী ভারতীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, টেক্সপ্রোসিল, রেমন্ড, টাটা মেমোরিয়াল হসপিটাল, এক্সিম ব্যাংক ও আমুল ডেয়েরী এর শীর্ষস্থানীয় কর্তাব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন। এ আলোচনা পর্বে তারা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব অগ্রগতির প্রশংসা করেন, বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং ভাবিষ্যতে আরও ব্যবসা বাণিজ্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা ও উপায় সম্পর্কে আলোকপাত করেন। বাংলাদেশের এ সাফল্যের জন্য তারা বাংলাদেশের সরকার ও জনগণকে অভিনন্দন জানান। আপ্যায়নের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি ঘটে।
ইত্তেফাক/এসএস