বিশ্ব অর্থনীতি চাঙ্গা হওয়ার পূর্বাভাস দিলো আইএমএফ

বিশ্ব অর্থনীতি চাঙ্গা হওয়ার পূর্বাভাস দিলো আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। গতকাল প্রকাশিত বিশ্ব অর্থনীতির হালনাগাদ পূর্বাভাস প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের উদীয়মান দেশগুলোতে বিনিয়োগে গতি ফিরছে। উদীয়মান এশিয়া ও ইউরোপের অর্থনীতি চাঙ্গা হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ফলে চলতি ২০১৮ বছর শেষ নাগাদ বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত হতে পারে। এজন্য অনুকূল বাজার ব্যবস্থা, সুবিধাজনক আর্থিক ব্যবস্থাপনা কৌশল বজায় রাখতে হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। 
 
আইএমএফ এর ওয়ার্ল্ড ইকনমিক আউটলুক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৭ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি হয়েছিলো ৩ দশমিক ৮ ভাগ। বিশ্ব বাণিজ্যের গতি ফিরে আসায় এমন প্রবৃদ্ধি হয়েছিলো। বিশ্ববাণিজ্যের সাথে বিনিয়োগ অনেকটাই সম্পর্কিত। বিশ্ববাণিজ্যের গতিধারা দুই বছর স্তিমিত থাকার পর ২০১৭ সাল থেকে বাড়তে শুরু করে। এসময় বিশ্বের উদীয়মান ও উন্নয়নশীল দেশেও বিনিয়োগ বাড়তে থাকে। সেইসাথে ভোক্তা চাহিদাও বৃদ্ধি পায়। বিশ্বের বড় রপ্তানিকারণ দেশ জার্মানি, জাপান, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানিও বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে উদীয়মান এশিয়ার দেশগুলোর রপ্তানি বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। তবে আইএমএফ সতর্ক করেছে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির ফলে নিত্য পণ্যের মূল্যসূচক এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ১৭ ভাগ বেড়েছে। সেই সাথে কৃষি পণ্যের দামও বেড়েছে। চলতি বছর জানুয়ারি মাসে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ৬৫ ডলারে ঠেকেছে যা ২০১৫ সালের পর সর্বোচ্চ।
 
ইউরোপ, জাপান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ২০১৭ সালের আগস্টের পর গ্যাসের দাম প্রায় ৪৫ ভাগ বেড়েছে। বিশেষ করে চীনে কয়লার ব্যবহার কমানোর প্রচেষ্টা হিসেবে তরলীকৃত জ্বালানির ব্যবহার বেড়েছে। ফলে গত তিন বছরের মধ্যে চীনে তরলিকৃত জ্বালানির ব্যবহার এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। অন্যদিকে বিশ্বে গত আগস্ট থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিভিন্ন ধাতুর মূল্য ৮ দশমিক ৩ ভাগ বেড়েছে। প্রবৃদ্ধির সাথে সাথে মূল্যস্ফীতির উর্ধ্বমূখী হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। 
 
এবছর ভারতের প্রবৃদ্ধি ৭.৪ শতাংশ হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। যা পরবর্তী বছর বৃদ্ধি পেয়ে ৭ দশমকি ৮ ভাগ হতে পারে।  বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে আলাদা পূর্বাভাস না দিলেও এশিয়ার উদীয়মান দেশের তালিকায় বাংলাদেশ, ভূটান, ব্রুনাই, কম্বোডিয়া, ফিজি, লাও, মালদ্বিপসহ কয়েকটি দেশের প্রবৃদ্ধি গড়ে সাড়ে ৬ ভাগ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।