উচ্চ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে রাজশাহী নগরীর মহিষবাথান টুলটুলিপাড়ায় বিশালাকার একটি পুকুর ভরাট করছেন প্রভাবশালীরা। যার নেতৃত্বে রয়েছেন স্থানীয় ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কামরুজ্জামান কামরু। তার সঙ্গেই জমি মালিক চুক্তি করে পুকুরটি ভরাট করে নিচ্ছেন।
এ নিয়ে চরম ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয়দের মাঝে। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে রাজশাহী সিটি করপোরেশন, স্থানীয় থানাসহ বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে; কিন্তু বন্ধ হয়নি পুকুর ভরাট কাজ। দিনের বেলা প্রকাশ্যেই এই পুকুরটি ভরাট করা হচ্ছে। তবে প্রভাবশালীদের ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদের সাহস করতে পারছেন না।
মঙ্গলবার দুপুরে নগরীর মহিষবাথান টুলটুলিপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়কের পাশেই অবস্থিত বিশালকার ওই পুকুরটি। ট্রাকযোগে বালু এবং মাটি এনে এরই মধ্যে পুকুরটির অন্তত ৮০ ভাগ ভরাট করা হয়েছে। একদিকে ভরাট কাজ চলছে, অন্যদিকে মাটি এবং বালুগুলো বুলডজার মেশিন দিয়ে সমান করা হচ্ছে। এই কাজ দেখাশোনার জন্য স্থানীয় ৪-৫ যুবককেও পাহারায় রাখা হয়েছে। পুকুর মালিক সাধির রহমানকেও তদারকি করতে দেখা যায়।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক বলেন, ‘পুকুর এবং সকল প্রকার জলাশয় ভরাটে উচ্চ আদালত থেকে নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। কিন্তু একের পর এক পুকুর ভরাট হচ্ছেই। আমাদের অগোচরেই পুকুরগুলো করা ভরাট হচ্ছে। আর যারা এগুলো করছে-তাদের বিরুদ্ধে সিটি করপোরেশন থেকে কোনো পদক্ষেপও নেয়া যাচ্ছে না।’
প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালে হ্যারিটেজ রাজশাহীর পক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে রিট করা হলে আদালত রাজশাহী নগরীতে সকল ধরনের জলাশয় ভরাটরোধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। ওই নিষেধাজ্ঞা এখনো বলবৎ থাকলেও পুকুর ভরাট বন্ধ করা যাচ্ছে না। এ নিয়ে রাজশাহীবাসীর মাঝে রয়েছে চরম ক্ষোভ।
ইত্তেফাক/আরকেজি