‘সরকারি কর্মচারীরা রাসিক মেয়রের আহ্বানে সাড়া দিচ্ছেন না’

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল অভিযোগ করে বলেছেন, ‘পতাকা কেড়ে নেওয়ায় সরকারি কর্মচারীরা মেয়রের আহ্বানে সাড়া দিচ্ছেন না। ফলে রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকায় অরাজকতা বন্ধ করা যাচ্ছে না। নাগরিকরা যত্রতত্র নির্মাণ সামগ্রী রেখে সিটি করপোরেশনকে বিব্রত করছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অভ্যন্তরের পরিবেশ দূষিত হয়ে উঠেছে। পরিবহন শ্রমিকরা শহরকে জিম্মি করে ফেলেছেন।’ 
 
আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহী মহানগরীর মাস্টারশেফ রেষ্টুরেন্টে ‘তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের প্রায়োগিক অবস্থা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজশাহী সিটি করপোরেশন এবং এসোসিয়েশন ফর কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট (এসিডি) যৌভভাবে এই সভার আয়োজন করে। রাসিকের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা এবং স্বাস্থ্য রক্ষা ব্যবস্থা স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও প্যানেল মেয়র-৩ নুরুন্নাহার বেগমের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন স্থানীয় দৈনিক সোনালী সংবাদের সম্পাদক ও সাংবাদিক কল্যাণ তহবিলের সভাপতি মো. লিয়াকত আলী এবং দৈনিক সানশাইনের সম্পাদক তসিকুল ইসলাম বকুল। 
 
কী-নোট উপস্থাপন করেন এসিডির প্রকল্প সমন্বয়কারী এহসানুল আমিন ইমন। সঞ্চালনা করেন অ্যাডভোকেসি অফিসার শরিফুল ইসলাম। সহায়তায় ছিলেন প্রোগ্রাম অফিসার কৃষ্ণা রাণী বিশ্বাস ও তুহিন ইসলাম। আলোচনায় অংশ নেন সাংবাদিক আনিসুজ্জামান, এসএম আতিক, শরীফ সুমন, সোহেল মাহবুব, শফিক আজম, তরিকুল ইসলাম প্রমুখ। 
 
মেয়র আরও বলেন, রাজাশাহী শহরকে ধুমপান মুক্ত করার পদক্ষেপ হিসেবে আগামি জুনে ট্রেড লাইসেন্সে ‘পাবলিক প্লেসে সিগারেট বিক্রি’ বন্ধের শর্ত দেয়া হবে। শর্তানুযায়ী পাবলিক প্লেসে সিগারেট বিক্রি বন্ধের পাশাপাশি সিগারেটের প্যাকেট উন্মুক্ত করা যাবে না।’
 
অন্যান্য বক্তারা বলেন, রাজশাহীতে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের প্রয়োগ তেমন না থাকায় তামাকজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে চলেছে। এখানকার নাগরিক জীবনে শ্বাসকষ্ট, হাপানি, যক্ষার প্রাদুর্ভাব বেশি। নগরীর পাবলিক প্লেসে তথা জনবহুল এলাকায় ধুমপানের কারণে একদিকে যেমন স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে। অন্যদিকে রাজশাহীকে ক্লিন সিটি গড়ার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমানে দেশে ১ লাখের অধিক মানুষ তামাকজনিত রোগে মৃত্যুবরণ করেন। এ মৃত্যুর হার কমিয়ে আনতে সব জনবহুল শহরকে তামাকমুক্ত করা জরুরি। এতে করে তামাক সেবীর সংখ্যা কমবে অন্যদিকে পরোক্ষ ধূমপান থেকে অধূমপায়ীরা রক্ষা পাবে। 
 
ইত্তেফাক/কেকে