মানিকগঞ্জে খান বাহাদুর আওলাদ হোসেন খান উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী লাবন্য আক্তারের আত্মহত্যার প্ররোচনাকারী রোমান মিয়ার গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।
বৃহস্পতিবার সকালে মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাব চত্বরে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন মানিকগঞ্জ পৌরসভার প্যানেল মেয়র আরশেদ আলী বিশ্বাস, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মজিদ মোল্লা, নিহত লাবণ্য আক্তারের পিতা সিদ্দিক খান। তারা অবিলম্বে অভিযুক্ত বখাটেকে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন। এর আগে তারা বিদ্যালয় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে মানিকগঞ্জ জেলা শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
ব্ল্যাকমেইলিং এর শিকার হয়ে লাবন্য গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করে বলে পরিবার অভিযোগ করেছে। গত ৯ এপ্রিল তার নিজ গৃহ থেকে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ব্যাপারে লাবন্যের মা সুরাইয়া আক্তার গত মঙ্গলবার মানিকগঞ্জ সদর থানায় রোমান মিয়া নামের এক যুবককে অভিযুক্ত করে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেছেন।
মানিকগঞ্জ পৌরসভার বড়াই এলাকার সিদ্দিক খানের মেয়ে লাবণ্য আক্তার এবার খান বাহাদুর আওলাদ হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। সিদ্দিক খান সাংবাদিকদের জানান পুর্ব দাশড়া এলাকার কালাম মিয়ার ছেলে রোমান মিয়া মাঝে মাঝেই লাবণ্যের কাছ থেকে টাকা পয়সা দাবি করতো। তার ধারণা সম্পর্কের জের ধরে লাবণ্যের কোনও আপত্তিকর ছবি বা ভিডিও রুমানের কাছে আছে।
তিনি আরও জানান, ছবি বা ভিডিও দেখিয়ে লাবণ্যর কাছ থেকে নিয়মিত টাকা পয়সা নিত রোমান। কিন্ত টাকা দিতে না পারায় শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে তার মেয়ে। তিনি আরও জানান আত্মহত্যার দিনেও লাবণ্যের মোবাইলফোনে রুমান কমপক্ষে ৫০ বার ফোন করেছে।
মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রকিবুজ্জামান জানান আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। আত্মহত্যার কারণ সম্পর্কে তদন্ত চলছে।
ইত্তেফাক/কেআই