হয়রানী কমাতে বেনাপোল বন্দরসহ সব স্থলপথে ভ্রমণ কর মওকুফের দাবি

দেশের বৃহত্তম আন্তজার্তিক স্থলবন্দর বেনাপোলসহ সকল স্থল পথে (সড়ক ও রেল পথে) ভারত যাতায়াতকারী যাত্রীদের যেন হয়রানীর শেষ নেই। আর প্রতারণার শিকার এমন অভিযোগ যাত্রীদের দীর্ঘদিনের। ব্যাংকে ভ্রমণ কর দেয়া নিয়েই যতসব অনিয়ম, দুর্নীতি আর যাত্রী হয়রানী। 
 
বেনাপোল আন্তর্জার্তিক চেকপোস্ট দিয়ে প্রতিদিন ভারত যাতয়াতকারী যাত্রীদের শতকরা ৮৫ ভাগ এ পথে যাতয়াত করে থাকেন। প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১০ হাজার ক্ষেত্রে বিশেষ আরো বেশি যাত্রী যাতায়াত করে শুধু বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে। 
 
আর এসব যাত্রীরা হয়রানীর শিকার হচ্ছে ভ্রমণ কর সংক্রান্ত বিষয়ে।  চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়া গরীব রোগী ও দুস্থ  যাত্রীদের  প্রায় বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমস তল্লাশী কেন্দ্রে দেখা যায় ভ্রমণকর মওকুফ করার জন্য আহাজারি করতে কর্মরত কাস্টমস কর্মকর্তাদের কাছে। বাংলাদেশ-ভারত দু-দেশের মধ্যে সম্পর্ক বন্ধু প্রতিম। দু-বাংলার মানুষের কৃষ্টি কালচার আর আত্মীয়তার বন্ধন দীর্ঘদিনের হওয়ায় ভারতে যাতায়াত বাড়ছে দিনের পর দিন। 
 
আর্ন্তজাতিক চেকপোস্ট বেনাপোলসহ দেশের সকল এলসি স্টেশনের মাধ্যমে স্থল পথে ভারতে যাত্রী যাতায়াত করে থাকেন। তাছাড়া  দু-দেশের মধ্যে রেল যোগাযোগ স্থাপন হওয়ায় বাংলাদেশ-কলকাতায় যাত্রীরা ভ্রমণও করে থাকেন। সারা বছরই জমজমাটভাবে যাত্রী যাতায়াত করে তাদের বিভিন্ন প্রয়োজনে। বিশেষ করে ভারতে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীদের একটা বড় অংশ ভারতে যান। আর্থিকভাবে স্বচ্ছল যাত্রীরা বিমানে যাতয়াত করে থাকেলেও নিন্ম-মধ্যেবিত্ত শ্রেণির যাত্রীরা স্থল পথে যাতায়াত করে থাকেন। সে ক্ষেত্রে তারা দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলা শহর থেকে চেকপোস্ট এসে ভারতে গমন করেন।
IMG0
বেনাপোল চেকপোস্ট পার হয়ে পেট্রাপোল থেকে কলকাতা পর্যন্ত ট্রেন ভাড়া মাত্র ১৭ রুপী  হলেও বাংলাদেশ থেকে ভারতে যেতে হলে দু-দেশের নাগরিকদেরকেই দিতে হচ্ছে ৫০০ টাকা ভ্রমণ কর এবং আর্ন্তজাতিক প্যাজেঞ্জার টার্মিনাল চার্জ ৪০ টাকা ৭০ পয়সা। এ সব করের টাকার সঙ্গে আবার বাড়তি টাকাও গুণতে হয় যাত্রীদের বলে জানালেন ভারতগামী বাংলাদেশী যাত্রী আব্দুল জলিল। সোনালী ব্যাংকের ব্যুথের সামনে দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়ে ভ্রমণ কর সংগ্রহ করতে নাজেহাল হতে হয় যাত্রীদের। সে ক্ষেত্রে রোগী যাত্রী ও শিশুদের নিয়ে নানা ঝামেলা পোহাতে হয় তাদের সঙ্গে থাকা সঙ্গিদের। তার পরেও দালালদের ঝুক্কি ঝামেলা তো আছেই।
 
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশান পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মাসুম কাজী জানান, ব্যাংকে ভ্রমণ কর সংগ্রহ করতে যাত্রীদের বেশ নাজেহাল হতে হয়। বিশেষ করে রোগী ও শিশুদের সমস্যা হয় বেশী। ভারতীয় যাত্রী  আকাশ দাস বলেন, ভারতে কোন দেশের নাগরিকদের ভ্রমণ কর নেই। আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র বাংলাদেশেও কোন ভ্রমণ কর থাকা উচিৎ নয়। এটা প্রত্যাহার হওয়া উচিৎ।
 
ভারতগামী যাত্রী রংপুরের স্বপন ভট্টচার্য, ময়মনসিংহের শিল্পী রানী, নেত্রকোনার পবিত্র কমার দত্ত, ফকিরহাটের পরিতোষ পাল এবং খুলনার মনোরঞ্জন বিশ্বাস জানান, আমাদের ভারত ঘুরে আসতে যে টাকা খরচা হয় তার চেয়ে বেশি খরচা হয় ভ্রমণ কর দিতে তার পরেও হয়রানী আর ঝামেলার শেষ নেই। প্রতিবেশী বন্ধু রাষ্ট্র ভারত, যেখানে আমাদের রক্তের আর  নাড়ীর টান রয়েছে সেখানে যেতে ভ্রমণ কর দিতে হবে কেন? দু-দেশের মানুষের মাঝে সৌহাদ্য আর সম্প্রীতি  আরো সুদৃঢ় করতে  এ ভ্রমণ কর প্রত্যাহার হোক এমন দাবি আমাদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে। 
 
ভ্রমণ কর আইনে, ২০০৩ এর ধারা-৪(১) এর অধীনে সরকার কোন ব্যক্তি বা ব্যক্তি শ্রেণিকে প্রদেয় ভ্রমণ কর হতে অব্যাহতি প্রদান করতে পারেন। একই আইনের ধারা-৪(২) অনুযায়ী ১০ ধরনের যাত্রীদের ভ্রমণ কর প্রদান থেকে অব্যাহতি প্রদান করা আছে। সে ক্ষেত্রে স্থল পথে (সড়ক ও রেল) ভারত যাতয়াতকারী যাত্রীদের হয়রানী ও দুর্ভোগের অবসান ঘটাতে ভ্রমণ কর প্রত্যাহারের দাবি যাত্রীদের।
 
ইত্তেফাক/ইউবি