আজ বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের ৪৭ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী

আজ শুক্রবার বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দর রউফের ৪৭ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী। ১৯৭১ সালের ২০ এপ্রিল-এ মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে পাক হানাদের সাথে সম্মুখ সমরে তিনি সাবেক পার্বত্য চট্টগ্রাম বর্তমান রাঙ্গামাটি জেলার নানিয়ারচর থানার বুড়িঘাট নামক স্থানে শহীদ হন।
 
মধুখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান, আজ ৪৭তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে রউফ নগরের (সালামাতপুর) গ্রামে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ গ্রন্থগার ও স্মৃতি জাদুঘরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার স্মৃতি ফলকে পুষ্পমাল্য অর্পণ, জাতীয় পতাকা উত্তোলনসহ যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে এবং স্মৃতি সংসদ ও পারিবারিক উদ্যোগে কোরআন খানি ও  আলোচনা সভা এবং বাদ জুম্মা মিলাদ মাহফিল ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন।
 
বীরশ্রেষ্ঠের বড় বোন জাহানারা বেগম জানান, বীরমাতা মুকিদুননেছা মৃত্যুর পর পরিবারের পক্ষ থেকে আমরা সালামাতপুরে আলোচনা ও দোয়া এবং মিলাদ মাহফিল আয়োজন করি। এবারও প্রশাসন সহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। ইতিমধ্যে পরিবারের পক্ষ থেকে ফরিদপুর জেলা প্রশাসক, মধুখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
 
বাবা মুন্সী মেহেদী হাসান মা মকিদুননেছার একমাত্র ছেলে সন্তান মুন্সী আব্দুর রউফ ১৯৪৩ সালের মে মাসে বর্তমান মধুখালী উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নের রউফ নগর (সালামাতপুর) গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। ১১ বছর বয়সে তার বাবা মারা যান। এর পর আর্থিক অনটনের কারণে লেখাপড়া সম্ভব না হওয়ায় তিনি তৎকালীন ইপিআর এ ১৯৬৩ সালের ৮ মে সৈনিক পদে যোগদান করেন। তার সৈনিক নম্বর ছিল ১৩১৮৭।
 
মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি তার উইংয়ে কর্মরত অবস্থায় ৮ম ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং তিনি মেশিন গানার হিসেবে ৮ নম্বর সেক্টর কমান্ডারের অধীনে রাঙ্গামাটির মহালছড়ি নৌপথ অঞ্চলে বুড়িঘাট নামক স্থানে চিংড়িখালের প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত ছিলেন। ‘৭১ এর ২০ এপ্রিল পাকবাহিনীর সাথে সম্মুখ সমরে মুন্সী আব্দুর রউফের মেশিন গানের গুলিতে পাকবাহিনীর ২টি লঞ্চ, একটি স্পিডবোড ডুবে পাকবাহিনীর দুই প্লাটুন সৈন্যের সলিল সমাধি ঘটে। এ সময় হঠাৎ প্রতিপক্ষের নিক্ষিপ্ত মটার সেলের আঘাতে তিনি শহীদ হন। ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ শহীদ হবার দীর্ঘ ২৫ বছর পর ১৯৯৬ সালে বুড়িঘাট নিবাসী জ্যোতিষ চন্দ্র চাকমা ও দয়াল কৃঞ্চ চাকমার সহায়তায় বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ এর কবরের স্থান সনাক্ত করতে সক্ষম হন। ১৯৯৭ সালে সেখানে একটি স্মৃতি সৌধ নির্মাণ করা হয়।
 
বিগত ২০০৮ সালে ২৮ মে তার নিজ গ্রাম সালামাতপুরের নাম রউফ নগর রাখা হয়। ওই বছরেই তার নামে নিজ গ্রাম রউফ নগরে স্থানীয় সরকার সমবায় মন্ত্রণালয় ফরিদপুর জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে প্রায় ৬৮ লাখ টাকা ব্যয়ে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ স্মৃতি যাদুঘর ও গ্রন্থগার নির্মাণ করা হয়েছে। স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ কৃতিত্বের জন্য সরকার তাকে বীরশ্রেষ্ঠ উপাধিতে ভূষিত করেন। এছাড়া তার নামে এলাকায় কামারখালী বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ ডিগ্রি কলেজকে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকারি করেছেন। গন্ধখালী বীরশ্রেষ্ঠ উচ্চ বিদ্যালয়, সাভারে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ গেট, ঢাকায় বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ রাইফেলস স্কুল অ্যান্ড কলেজ সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তার নামে প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।
 
ইত্তেফাক/এসএস