আলমডাঙ্গার মাদক ব্যবসায়ী মিনি অবশেষে গ্রেফতার

চুয়াডাঙ্গার মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে অন্যতম আলমডাঙ্গার মিনিকে অবশেষে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে শহরের টার্মিনাল এলাকা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সে সড়কের পাশের একটি জঙ্গলের ভেতর লুকানোর চেষ্টা করে। কিন্তু এতেও সে নিজেকে রক্ষা করতে পারেনি। পুলিশের হাতে পাকড়াও হতে হয়েছে। এ সময় তার কাছ থেকে ৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে পুলিশ।
 
গতকাল মিনির গ্রেফতারের ঘটনায় তার নামের শেষে ১২টি মাদক মামলার সাথে আরো একটি মামলা যুক্ত হয়েছে। এছাড়া পার্শ্ববর্তী থানাতেও তার নামে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। অ্যাডিশনাল দুই আইজিপির নির্দেশে মাদক বন্ধে বড় বাঁধা হয়ে দেখা দিয়েছে মিনি শীর্ষক ইত্তেফাকে সংবাদ প্রকাশের তিনদিনের মাতায় তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হল আলমডাঙ্গা পুলিশ।
 
থানা সূত্র জানায়, আবু জিহাদ খান আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে মাদকের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেন। আলমডাঙ্গাবাসীও জিহাদের নামকরণের সার্থকতা দেখতে আশান্বিত হয়ে ওঠেন। একের পর এক মাদক ব্যবসায়ীদের আটক করতে থাকেন তিনি। মাদক ব্যবসায়ী ও সেবীদের মধ্যে ‘জিহাদ’ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শ'খানেক মাদক ব্যবসায়ীকে জেল হাজতে যেতে হয়। মাদক সাম্রাজ্যে পুলিশী টর্নেডো ছড়িয়ে পড়লে আলমডাঙ্গার মাদক ব্যবসায়ী মিনি তার আস্তানা ছেড়ে পালিয়ে যায়। একে একে সব মাদক ব্যবসায়ী আটক হতে থাকলেও হাজার হাজার ইয়াবা চালানের ধারক ও বাহক মিনি থাকে ধরা ছোয়ার বাইরে। সে কুষ্টিয়ার একটি অঞ্চলে আত্মগোপনে থেকে আলমডাঙ্গার মাদক সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করছে বলে আটক অনেক মাদক ব্যবসায়ী অভিযোগ করতে থাকে। এক পর্যায়ে ইত্তেফাক মাদক নিয়ে একটি অনুসন্ধানী রিপোর্ট প্রকাশ করে। পুলিশ হন্যে হয়ে মিনিকে আটকের চেষ্টা করতে থাকে। চতুর্দিকে জাল ফেলে দেয় পুলিশ। 
 
গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে পুলিশ খবর পায় যে, অতি গোপনে মিনি তার হারানো সাম্রাজ্য দেখতে আলমডাঙ্গায় ঢুকেছে। শহর চষে শেষ পর্যন্ত রাত ৯টার দিকে পুলিশ জানতে পারে মিনি টার্মিনাল এলাকায় অবস্থান করছে।
 
থানার অফিসার ইনচার্জ আবু জিহাদ খানের সরাসরি মনিটরিংয়ে এসআই একরাম, এসআই গিয়াস,এসআই হুমায়ুন, এএসআই মোস্তফা কামাল ও এএসআই হামিদ ত্রিমুখী অভিযানে নামেন। মিনিকে তিনদিক থেকে ঘিরে ফেলে পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মিনি সড়কের পাশের একটি জঙ্গলে লুকানোর চেষ্টা করে। তবে শেষ পর্যন্ত এলাকার কুখ্যাত মাদক সম্রাজ্ঞী মিনি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়।
 
আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ আবু জিহাদ খান জানিয়েছেন, মিনির আটকের মধ্য দিয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলাসহ আলমডাঙ্গার অন্যতম প্রধান মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হল তারা। মিনির মাদক ব্যবসা জীবনে আলমডাঙ্গা থানায় ইতোপূর্বে ১২টি মামলা রয়েছে। আরো একটি মামলা যুক্ত হল। এছাড়া পার্শ্ববর্তী থানায় মিনির নামে আরো মামলা রয়েছে।
 
মিনির গ্রেফতারের খবরে শহরের ক্ষতিগ্রস্ত অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দের বন্যা বয়ে গেছে। আলমডাঙ্গার অসংখ্য পরিবারের সম্ভাবনাময় সন্তান মিনির মাদকের ছোবলে নিঃশেষ হয়ে গেছে। অসংখ্য পরিবার মাদকের নীল ছোবলে ধ্বংস হয়ে গেছে। মরননেশা মাদকের আগুনের লেলীহান শিখায় পুড়ে ছারখার হয়ে গেছে অসংখ্য পরিবার। সেই মিনির আটকের খবরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের অভিভাবকরা অভিনন্দন জানিয়েছেন থানা পুলিশকে।
 
ইত্তেফাক/এসএস