কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় জঙ্গি উপস্থিতি ও পুলিশি অভিযানের আতঙ্ক এখনো পুরোপুরি কাটেনি এলাকাবাসীর মন থেকে। সেই ‘জঙ্গি আস্তানা’ ঘিরে এখন সুনসান নীরবতা। মানুষের কোলাহল নেই। যদিও এরই মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জিম্মা থেকে বাড়িটি মালিক বুঝে পেয়েছেন। তবু কেউ সেখানে থাকে না।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাড়িটি পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে। কেউ সেখানে বসবাস করছে না। এখনও ভয়ে-আতঙ্কে তারা ওই বাড়ির আশপাশে যান না। মাঝে মাঝে পুলিশ এসে খোঁজখবর নিয়ে যায়। তাছাড়া এলাকার কেউ সেখানে যায় না।
ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমানে ওই বাড়িতে কেউ থাকে না। তাছাড়া সন্দেহজনক ঘোরাফেরা করতেও কাউকে দেখা যায় না। তবে এখনও মাঝে-মধ্যে নজরদারি করা হয়।’
গত বছরের ৩০ জুন উপজেলার বামনপাড়া তালতলা এলাকার বাড়িটিতে ‘অপারেশন টেপিড পাঞ্চ’ নামে জঙ্গিবিরোধী অভিযান চালানো হয়। ২২ ঘণ্টার ওই অভিযানে নব্য জেএমবির আমির আইয়ুব আলীর স্ত্রী তিথি, তাদের মেয়ে আফিয়া হাসান (৫ মাস), আরমান আলীর স্ত্রী টলি আরা, তাদের মেয়ে নোভা (৬) ও নব্য জেএমবির সেকেন্ড ইন কমান্ড রাজিবুল ওরফে রাশেদ ওরফে তালহার স্ত্রী সুমাইয়াকে আটক করা হয়। এরপর ওই বাড়ির মালিক নাসিমা বেগমকেও আটক করে পুলিশ। ওই অভিযানে ১০ কেজি বিস্ফোরক দ্রব্য, দুটি সুইসাইডাল ভেস্ট, একটি পিস্তল, ম্যাগজিন ও গান পাউডার জব্দ করা হয়। অভিযান শুরুর আগে ওই জঙ্গি আস্তানার চারপাশে ৫শ' মিটার এলাকাজুড়ে ১৪৪ ধারা জারি করে উপজেলা প্রশাসন।
ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আননূর যায়েদ জানান, কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় আটক করে নব্য জেএমবির আমীর আইয়ুব আলী ওরফে আইয়্যুব বাচ্চু’র স্ত্রী তিথি, সেকেন্ড ইন কমান্ড আব্দুর রশিদ’র স্ত্রী সুমাইয়া, জেএমবি’র সমন্বয়ক ও আরমান হোসেনের স্ত্রী টলি খাতুনের বিরুদ্ধে ভেড়ামারা থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে।
ইত্তেফাক/এসএস