স্মরণকালের ভয়াবহ রানা প্লাজা ধসের পাঁচ বছর পূর্ণ হয়েছে মঙ্গলবার। এ উপলক্ষে সকাল থেকেই রানা প্লাজা ধসে নিহত শ্রমিকদের স্বজন ও আহত শ্রমিক ছাড়াও সাধারণ মানুষের ভিড় ছিল ধসে পড়া রানা প্লাজা চত্বরে। সকলের কণ্ঠে ছিল আহত-নিহত ও নিখোঁজ শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ ও দোষীদের শাস্তির দাবি।
সকাল থেকেই বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন, সামাজিক সংগঠন, রাজনীতিবিদ, সুশীল সমাজের নেতারা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে রানা প্লাজার সামনে হাজির হন। এ সময় রানা প্লাজার সামনে নির্মিত অস্থায়ী বেধিতে ফুলে দিয়ে শ্রদ্ধা জানান সংগঠনের নেতারা, আহত-নিহত ও নিখোঁজ শ্রমিকদের স্বজনসহ সর্বস্তরের মানুষ। পরে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ থেকে রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানাসহ ভবন ধসের ঘটনায় দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানোনো হয়।
এ সময় রানা প্লাজা ধসে নিহত ও আহত শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যরা পাঁচ বছর পূর্তিতে শ্রদ্ধা জানাতে এসে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তাদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠে আকাশ বাতাস। অনেক সন্তান হারা মা তার নিখোঁজ ছেলে এবং মেয়ের ছবি বুকে জড়িয়ে অঝরে কাঁদতে থাকেন।
সকাল ৭টায় রানা প্লাজার সামনে নির্মিত শহীদ বেদীতে নিহতদের স্বরণে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. এনামুর রহমান। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ রাসেল হাসান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিকাশ বিশ্বাসসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন কলামিস্ট সৈয়দ আব্দুল মকসুদ, সংবিধানের প্রনেতা ড. কামাল হোসেন, তত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মানবাধিকার কর্মী এ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল প্রমুখ।
রানা প্লাজা দুর্ঘটনাকে একটি হত্যাকাণ্ড উল্লেখ করে সুলতানা কামাল বলেন, যারা এসব প্রতিষ্ঠান এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন তারা তাদের দায়িত্বে অবহেলা করেছিল বলেই এতো বড় একটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। অন্যদিকে রানা প্লাজার পাঁচ বছর পূর্তি উপলক্ষে নিহত ও আহত শ্রমিকদের স্বরণে সাভার অধরচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া ধসে পড়া রানা প্লাজার সামনেও নিহতদের স্মরণে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডে অবস্থিত ৯ তলা বিশিষ্ট রানা প্লাজা ধসে পড়ে। ভবনটিতে থাকা ৫টি তৈার পোশাক কারখানায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার শ্রমিক কর্মচারী কাজ করতো। পোশাক শিল্পের ইতিহাসে ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় মারা যায় ১১৩৬ জন শ্রমিক, জীবিত উদ্ধার করা হয় ২৪৩৮ জন। এর মধ্যে গুরুতর আহত হয় ১১৬৯ জন।
ইত্তেফাক/ইউবি