ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার হাটফাজিলপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ তিন শিক্ষককে লাঞ্ছিত করেছেন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি তোফাজ্জেল হোসেন।
এ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকালে বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উপানন্দ কুমার মণ্ডল, সহকারী শিক্ষক উত্তম কুমার অধিকারী ও আবুল বাশার।
জানা গেছে, দেড় বছর আগে হাটফাজিলপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন তোফাজ্জেল হোসেন। এরপর থেকে তার বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, বিদ্যালয়ের অর্থলোপাট, শিক্ষকদের সঙ্গে অসদারচণসহ নানা অভিযোগ রয়েছে।
প্রধান শিক্ষক উপানন্দ কুমার মণ্ডল অভিযোগ করেন, সোমবার দুপুরে স্কুল পরিচালনা কমিটির সভা ছিল। সভা শেষে সভাপতি তোফাজ্জেল হোসেন সহকারী শিক্ষক শিক্ষক উত্তম কুমার অধিকারী ও আবুল বাশারের কাছে ছাত্রদের কাছ থেকে বেতন বাবদ টাকা আদায়ের রশিদ দেখাতে বলেন। এ সময় তিনি টাকাও দাবি করেন। এক পর্যায়ে সভাপতি ওই দুই শিক্ষককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। প্রধান শিক্ষক এগিয়ে এলে তাকেও লাঞ্ছিত করেন।
শৈলকুপা থানার ওসি আলমগীর হোসেন জানান, মঙ্গলবার সকালে শিক্ষার্থীরা ঘটনার সংবাদ শুনে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তারা ক্লাস বর্জন করে কুমিরাদহ গ্রামে সভাপতির বাড়ি ঘেরাও করে। সেখানে তাকে না পেয়ে পরে শৈলকুপা-হাটগোপালপুর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে। সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলে বিক্ষোভ ও অবরোধ। পরে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও পুলিশের আশ্বাসে তারা সড়ক অবরোধ তুলে নেয়।
এ ব্যাপারে শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উসমান গনি জানান, শিক্ষক লাঞ্ছিত করার মতো ঘটনা খুবই লজ্জাজনক। অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ইত্তেফাক/ইউবি