রানাপ্লাজা ট্র্যাজেডির পাঁচ বছর

হাত কেটে বেরিয়ে আসা রোজিনা সহযোগিতা চান

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ট্র্যাজেডিতে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া শ্রমিক রোজিনা নিজের হাত নিজেই করাত দিয়ে কেটে বেড়িয়ে আসেন। বর্তমানে তিনি নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। তার নিজের স্বপ্নগুলো মরে গেলেও চান সন্তানদের মানুষ করতে। আর এজন্য তিনি সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন।

রোজিনা বেগম ও তার ছোট বোন মর্জিনা আক্তার জীবিকার তাগিদে কাজ করতেন সাভারের রানাপ্লাজার তৃতীয় তলায় পোশাক কারখানায়। রানাপ্লাজা ধসের ঘটনায় মর্জিনার মৃত্যু হয়। আর ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে তিন দিন পর মৃত্যুকে জয় করে বেরিয়ে আসেন রোজিনা। এরপর দীর্ঘদিন ঢাকায় চিকিত্সা শেষে ফিরে আসেন নিজ বাড়িতে। তার বাড়ি গৌরীপুর উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের গাজীপুর গ্রামে। বিভিন্ন সংস্থার পাওয়া অনুদানের টাকায় ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের গাজীপুর বাজারের পাশে এক টুকরো জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ করেছেন। ওই বাড়িতেই স্বামী ও দুই  মেয়েকে নিয়ে এখন তার দিন কাটে। তবে বিভীষিকাময় সেই দিনের দুর্বিষহ স্মৃতি এখনো তাড়া করে বেড়ায় রোজিনাকে।

রোজিনা বলেন, নিজের জীবন নিয়ে আমার আর কোনো স্বপ্ন নেই। কিন্তু টাকা ছাড়া তো সন্তানদের ভালো জায়গায় পড়ালেখা করানো যাবে না। তাই সরকার ও হূদয়বানদের কাছে আমার আকুতি আমার সন্তানদের যেনো পড়ালেখা করার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। কারণ আমি চাই না ওরা গার্মেন্টসে কাজ করুক। আর যে ব্যক্তির জন্য (রানা প্লাজার মালিক) এতো মানুষের প্রাণহানি হলো, অনেকেই পঙ্গুত্ব বরণ করলো, তারও বিচার হওয়া উচিত।

ইত্তেফাক/নূহু