প্রতারণার ফাঁদে ৫ কোটি টাকা নিয়ে উধাও এমএলএম কোম্পানি

সাতক্ষীরার তালায় চলন্তিকা যুব সোসাইটি নামের এমএলএম কোম্পানি প্রতারণার ফাঁদে ফেলে গ্রাহকের প্রায় ৫ কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিঃস্ব হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে তিন শতাধিক গ্রাহক। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
 
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ‘চলন্তিকা যুব সোসাইটি’ নামে খুলনা ভিত্তিক একটি সংস্থা ২০০৪ সালে তালা উপজেলায় কার্যক্রম শুরু করে। বর্তমানে তালা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের বাসভবন সংলগ্ন অফিস ভাড়া নিয়ে তারা কার্যক্রম চালাত। অফিস কর্মচারীসহ বিভিন্ন অঞ্চল ভিত্তিক মাঠকর্মী নিয়োগের মাধ্যমে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আদলে ৬ বছরে দ্বিগুণ ও দশ বছরে তিনগুণ মুনাফা দেয়ার ঘোষণা দিয়ে মেয়াদি আমানত (এফডিআর), মাসিক আমানত (এমএসএস) এবং ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণ কর্মসূচির কাজ চালু করে চলন্তিকা। ২০০৯ সাল থেকে এ আমানত গ্রহণ ও ঋণদান কর্মসূচি শুরু করলে অধিক মুনাফার আশায় সেখানে অন্তত ৩ শতাধিক গ্রাহক ১৫ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদি আমানতের হিসাব খুলেছেন বলে জানা গেছে। কয়েকদিন আগে হঠাৎ করে সংস্থার সকল কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এবং ম্যানেজারসহ সকল কর্মীরা লাপাত্তা হওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে শত শত গ্রাহক। তারা নিরুপায় হয়ে সংস্থার ম্যানেজার ও কর্মীদের বাড়ি বাড়ি ধর্না দিলেও তাদের কোন হদিস মিলছে না।
 
তালা উপজেলার কাটাখালি গ্রামের অমনি সাহার ছেলে উদয় সাহার ১৭ লাখ, মৃত আদম গাজীর ছেলে আনছার গাজীর ১০ লাখ, বিধান সাহার ছেলে শশাঙ্ক সাহার ৬ লাখ, আমির আলীর ছেলে দাউদের ৫ লাখ, ঝড়গাছা দৌলতপুরের বিমল ঘোষের ১৫ লাখ, চলন্তিকার মাঠকর্মী শাহিনুর রহমানের স্ত্রী আকলিমা খাতুনের ৩ লাখ টাকাসহ বিভিন্ন গ্রামের ৩ শতাধিক গ্রাহকের আনুমানিক প্রায় ৫ কোটি  টাকা হাতিয়ে নিয়ে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উধাও হয়ে গেছে।
 
ভুক্তভোগী গ্রাহকরা বলেন, তাদের সহায়-সম্বল যা ছিল তা উচ্চ মুনাফা লাভের আশায় আমানত হিসেবে গচ্ছিত রেখেছিলেন চলন্তিকায়। তাদের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে বর্তমানে তারা নিঃস্ব হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এছাড়া সংস্থাটি  গ্রাহকদের অনেক টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে নিজেদের এ্যাকাউন্টে রেখেছে বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগী গ্রাহকদের দাবী, সাতক্ষীরার বিভিন্ন স্থানে চলন্তিকার অনেক সম্পত্তি রয়েছে। উক্ত সম্পত্তি সরকারের জিম্মায় নিয়ে তাদের টাকা ফেরতের ব্যবস্থা করার জন্য তারা তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
 
এ ব্যাপারে চলন্তিকা যুব সোসাইটির সাতক্ষীরা জোনের আঞ্চলিক অফিস তালার ধানদিয়া সহকারী ম্যানেজার ইমাদুল ইসলাম বলেন, 'আমরা কেন গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ করবো? আমাদের উপর মহলের কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে বলতে পারবে। আমরাতো তাদের নির্দেশে কাজ করি মাত্র।' একই সুরে কথা বলেন চলন্তিকার আঞ্চলিক অফিসের ম্যানেজার মো. আলমগীর হোসেন। চলন্তিকা যুব সোসাইটির চেয়ারম্যান খবিরুজ্জামানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তার মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া যায়।
 
তালা উপজেলার নির্বাহী অফিসার মো. ফরিদ হোসেন বলেন, এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। তবে এমন ঘটনা ঘটলে সত্যতা যাচাই করে  অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
 
ইত্তেফাক/এসএস