বড়চওনা উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক নেই এক মাস

টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার বড়চওনা উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রায় এক মাস ধরে চিকিৎসক নেই। গত ১ এপ্রিল থেকে ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি চিকিৎসকশূন্য। সখীপুর উপজেলা সদর হতে ১০কি.মি. দূরে অবস্থিত ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বুধবার সরেজমিন গিয়ে এ চিত্র দেখা যায়। ফলে এলাকাবাসী স্বাস্থ্যসেবা পেতে বঞ্চিত হচ্ছে।

বুধবার বেলা পৌনে এগারটার দিকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গেলে দরোজা, জানালা খোলা থাকলেও কাউকে পাওয়া যায়নি। দ্বিতীয় দফায় দুপুর সাড়ে ১২টায় গিয়ে ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ফার্মাসিস্ট আবুবকর সিদ্দিক ও ঝাড়ুদার লালজান বেগমকে বসে থাকতে দেখা যায়। তারা জানান, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উপ-সহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আবদুল মালেক সিদ্দিকী চলমান এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে ডিউটিতে গেছেন। উপ-সহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আবদুল মালেক সিদ্দিকীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ইত্তেফাকের এ প্রতিনিধিকে জানান, গত ১ এপ্রিল থেকে তিনি চলমান এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে ডিউটি করছেন। আগামী মে মাসের ১৫ তারিখ পর্যন্ত তার পরীক্ষাকেন্দ্রে ডিউটি করতে হবে। এ কারণে তিনি স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে আসেন না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রায় দুই বছর ধরে মেডিকেল অফিসারের পদটি শূন্য রয়েছে। এ ছাড়াও এমএলএসএসের পদটি প্রায় ছয় বছর ধরে শূন্য রয়েছে। উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রায় এক মাস ধরে চিকিৎসক না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা।

স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে প্রতিদিন অসংখ্য রোগী সেবা নিতে এসে ফিরে যাচ্ছেন। এ নিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ফার্মাসিস্ট আবু বকর সিদ্দিক বলেন, তিনি মাঝে মধ্যে রোগী দেখছেন। ফার্মাসিস্ট রোগী দেখতে পারে কিনা জানতে চাইলে মুঠোফোনে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রাফিউল করিম খান বলেন, ফার্মাসিস্টরা শুধু রোগীদের ওষুধ বিতরণ করে থাকেন, রোগী দেখার নিয়ম নেই তাদের।

এলাকাবাসী জানান, হাসপাতাল খোলা থাকলেও ওই হাসপাতালে গেলে ডাক্তার থাকে না, ওষুধ থাকে না, রোগীরা চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না!

ওই এলাকার স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান ও মোশারফ হোসেন জাফর বলেন, গ্রাম্য এলাকার স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে আশ-পাশের প্রায় ১২/১৩ টি গ্রামের লোকজন সেবা নিতে আসে। তাদের কাছেও ডাক্তার ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পাচ্ছেন না বলে রোগীরা মাঝে মধ্যেই অভিযোগ করছেন। ইউপি সদস্যরাও খোঁজ নিয়ে দেখছেন স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির এমন বেহালদশা।

হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীদের ভোগান্তি ও বিড়ম্বনার বিষয়ের প্রসঙ্গে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রাফিউল করিম খান বলেন, ‘উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। আশা করছি শিগগিরই নতুন চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া হবে।’

ইত্তেফাক/নূহু