রাউজানে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করা এক ভুয়া এমবিবিএস চিকিৎসককে এক লাখ পঁচিশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত। একইসঙ্গে চেম্বারটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।
২৬ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭ টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামীম হোসেন রেজার নেতৃত্বে নোয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির সহযোগীতায় পরিচালিত ভ্রাম্যমান আদালত এই দণ্ডাদেশ প্রদান করেন। দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত এই ভুয়া চিকিৎসক উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের পলোয়ান পাড়ার মৃত আবুল কাশেমের পুত্র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। এই ভুয়া চিকিৎসক স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে নোয়াপাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ হতে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার কথা স্বীকার করলেও তার ব্যবহৃত ব্যবস্থাপত্র ও লিফলেটে নামের পূর্বে ‘ডাঃ’ পরে ‘এম.বি.বিএস.-পিজিটি, (শিশু, মেডিসিন ও সার্জারী অভিজ্ঞ) জেনারেল ফিজিশিয়ান, প্রাক্তন মেডিকেল অফিসার, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনসহ নানা পদবী উল্লেখ করেন।
এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামীম হোসেন রেজা দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি জাহাঙ্গীর আলম নামক এক ভুয়া চিকিৎসক দীর্ঘদিন যাবৎ পথের হাটে চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন। ভ্রাম্যমান আদলত পরিচালনার মাধ্যমে তাকে আটক করলে সে তার ব্যবস্থাপত্র, প্রচারপত্র, সাইনবোর্ডে উল্লেখ করা ডিগ্রী ও পদবী গুলোর সপক্ষে কোন প্রয়োজনীয় সনদ ও কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। এইচ.এস.সি পর্যন্ত পড়াশুনা করেছেন বলে সে নিজেই ভ্রাম্যমান আদালতে কাছে স্বীকারোক্তি প্রদান করেন। ভুয়া পদবী ও ডিগ্রি ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার কারণে তাকে এক লাখ পঁচিশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড ও তার পরিচালিত চেম্বারকে সিলগালা করে দেওয়া হয়। সেই সাথে সে এই পদবী গুলোর ব্যবহার না করা এবং চিকিৎসা সেবা চালিয়ে যাবে না মর্মে মুচলেকা গ্রহণ করে ছেড়ে দেওয়া হয়।
নোয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস.আই শেখ জাবেদ দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, ইউএনও স্যারের নির্দেশে বিকালে নোয়াপাড়া পথেরহাটের স্কুল মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় ভুয়া চিকিসৎক জাহাঙ্গীর আলমের পরিচালিত ‘নোয়াপাড়া আধুনিক খৎনা সেন্টার’ হতে তাকে আটক করা হয়। সে আগেও একবার ভুয়া চিকিৎসকের পদবী ব্যবহারের কারণে ভ্রাম্যমান আদালত কর্তৃক দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত হয়েছিল।
ইত্তেফাক/নূহু