নওগাঁর রাণীনগরে পিরপালের জমির জিম্মাদার মো. সাদেক আলী আকন্দের পিরপালের দুই বিঘা জমির ধান কেটে নিয়ে গেছে স্থানীয় মাতব্বরদের নেতৃত্বে গ্রামের কিছু লোকজন। আর এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারো সাদেক আলীর পরিবারকে এক ঘরে করে রাখার অভিযোগ উঠেছে গ্রামের মাতব্বর ও স্থানীয়দের বিরুদ্ধে।
পিরপালের জমি নিয়ে সাদেক আলী আকন্দের পরিবারের সাথে ওই গ্রামের মাতব্বরসহ কিছু লোকজনদের বিরোধ চলে আসছে দীর্ঘদিন যাবত। গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলার একডালা ইউনিয়নের টং গ্রামের সাদেক আলী আকন্দের পিরপালের জমির ধান জোর করে কেটে নেওয়া ও তার পরিবারকে এক ঘরে করে রাখার ঘটনাটি ঘটেছে। এমনকি সাদেক আলী আকন্দের পরিবারের লোকজনের সাথে গ্রামের কেউ কথা বললে তাকে ৫হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে ওই গ্রামের কতিপয় মাতব্বররা।
জানা গেছে, একডালা ইউনিয়নের টং গ্রামের মো. সাদেক আলী আকন্দের বাবা মৃত-মহরম আলী আকন্দ ওই গ্রামের পিরপালের ১ একর ৯২শতংশ জমির জিম্মাদার ছিলেন। তার বাবা মারা যাওয়ার পর ছেলে সাদেক আলী আকন্দ দীর্ঘদিন যাবত এই জমিগুলোর দেখভাল করে আসছিলেন। পিরপালের ২ বিঘা জমিতে ইরি-বোরো ধান লাগান জিম্মাদার সাদেক আলী আকন্দ। গতকাল সকালে সাদেক আলীর দিনমজুর লোকজন নিয়ে জমিতে ধান কাটতে যায়। হটাৎ করে গ্রামের কতিপয় মাতব্বরদের নেতৃত্বে গ্রামের কিছু লোকজন তাদের ধান কাটায় বাধা দিয়ে জমি থেকে শ্রমিকদের তুলে দিয়ে গ্রামের মাতব্বর আবু সালে সহ কিছু মাতব্বরের নেতৃত্বে গ্রামের মো. কালাম, বাবু, সোলেমান, আব্দুর রউফ, রুহুল আমীন, লুৎফর, রুবেল, ফজলু মোল্লা, আব্দুস সাত্তারসহ ১০০-১২০ জন লোক মিলে ধান কেটে নিয়ে যায় এবং রাস্তার উপর মাড়াই মেশিন দিয়ে মাড়াই করে। ধান কেটে নিয়ে যাওয়ার পরই আবারো সাদেক আলী আকন্দের পরিবারকে এক ঘরে করে রাখার ঘোষণা দেয় ওই লোকেরা। এঘটনার পর থেকে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এই পরিবারটি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গ্রামের অনেকেই জানান, একডালা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. রেজাউল ইসলামের মদতে টং গ্রামের বিদেশ ফেরত প্রভাবশালী নেতা মো. মতিউর রহমান দুলু, হবিবর রহমান, আবু সালে, আব্দুর রউফ, আজাহার আলী, কালামসহ গ্রামের লোকজন ও কিছু নেতারা মিলে সাদেক আলী আকন্দের পরিবারকে প্রায় ৩ মাস আগে এক ঘরে করে রেখেছিল। আবার পিরপালের জায়গার জিম্মাদারকে কোন কিছু না বলেই জোরপূর্বক জমির গাছ, বাঁশ, পুকুরের মাছসহ প্রায় ২-৩ লাখ টাকার গাছ ও মাছ বিক্রয় করে ওই গ্রামের কিছু কতিপয় লোকদের নিয়ে গ্রামে গরু-খাসি জবাই করে ভোজনের আয়োজন করে। গতকাল বৃহস্পতিবার সাদেক আলীদের রোপন করা জমির ধান সন্ত্রাসী কায়দায় গ্রামের লোকজনদেরকে মদদ দিয়ে কেটে নিলো চেয়ারম্যান। এই বিষয়ে গ্রামের এই পক্ষের মধ্যে যে কোন সময়ে একটি বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বেধে যেতে পারে।
পিরপালের জমির জিম্মাদার সাদেক আলী আকন্দের ছেলে মো. হযরত আলী বলেন, আজ আমাদের রোপন করা ধান জমিতে কাটতে গেলে তারা আমার লোকজনদেরকে জোরপূর্বক উঠিয়ে দিয়ে তারা ধান কেটে রাস্তার উপর মেশিন দিয়ে মাড়াই করে বিক্রি করেছে। শুধু তাই নয় আমাদের পরিবারকে তারা আবার এক ঘরে করে রাখার ঘোষণা দিয়েছে এবং গ্রামের অন্য লোকজনরা আমাদের পরিবারের সঙ্গে কথা বললে তাদের ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে গ্রামের কতিপয় মাতব্বররা। এখন আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি।
একডালা ইউপি চেয়ারম্যান মো. রেজাউল ইসলাম বলেন, 'বিষয়টি আমার জানা নেই। যদি তারা লিখিত অভিযোগ করে তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'
একডালা ইউপি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বলেন, 'সমস্যা যাই হোক না কেন একজনের জমির ধান আরেক জন জোর করে কেটে নিয়ে যাওয়ার অধিকার রাখে না। এটি খুবই অন্যায় কাজ। দীর্ঘদিনের এই সমস্যা সমাধান করার জন্য আমি একাধিকবার চেষ্টা করেছি কিন্তু পারি নাই।'
IMG0
এব্যাপারে রাণীনগর থানার ওসি এএসএম সিদ্দিকুর রহমার বলেন, 'এই বিষয়টি সম্পূর্ণ নির্বাহী কর্মকর্তার বিষয়। নির্বাহী কর্মকর্তা আমাকে যা আদেশ করবেন তাই আমি করবো।'
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোনিয়া বিনতে তাবিব জানান, বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ইত্তেফাক/এসএস