এগিয়ে চলছে কালনা সেতুর নির্মাণকাজ

লোহাগড়া (নড়াইল) সংবাদদাতা

লোহাগড়ায় মধুমতি নদীর উপর কালনা সেতুর নির্মাণ কাজ চলছে। এ সেতুটি হবে ছয় লেনের। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের ক্রসবর্ডার রোড নেটওয়ার্ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় সেতুর নির্মাণ কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। কালনা ফেরিঘাট ঘুরে ও প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ছয় লেনের এ সেতু হবে এশিয়ান হাইওয়ের অংশ। চারটি মূল লেনে দ্রুতগতির এবং দুটি লেনে কম গতির যানবাহন চলাচল করবে। সেতুর দৈর্ঘ্য হবে ৬৯০ মিটার ও প্রস্থ ২৭ দশমিক এক মিটার। উভয় পাশের অ্যাপ্রোচ সড়ক হবে চার দশমিক ৩০ কিলোমিটার। সেতু নির্মাণে ব্যয় হবে ৯৫৯ কোটি টাকা। সেতুটি না থাকায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হত। এই সেতু চালু হলে মধুমতি নদীর উভয় পাড়ের বেশ কয়েকটি জেলার মানুষের ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হবে।

পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুর, ভাঙ্গা, গোপালগঞ্জ, খুলনা, বাগেরহাট, নড়াইল, যশোর, সাতক্ষীরাসহ আশপাশের আরো কয়েকটি জেলার মানুষ সুফল পাবে। ঢাকা থেকে এই সেতু হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ঢুকতে হলে মধুমতি নদীর ওপর সেতু নির্মাণ করা ছিল জরুরি। কালনা ফেরিঘাটে সেতু ছিল এ অঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি। ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গোপালগঞ্জ-নড়াইলের মাঝখানে মধুমতি নদীর ওপর কালনা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ক্রসবর্ডার রোড নেটওয়ার্ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টের পরিচালক কে এম আতিকুল হক জানান, গত ২৪ জুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সেতু কর্তৃপক্ষের কার্যাদেশ চুক্তি স্বাক্ষর হয়। জাপান ইন্টারন্যাশনাল করপোরেট এজেন্সির (জাইকা) অর্থায়নে সেতুটি নির্মিত হবে। জাপানের টেকনেক করপোরেশন ও ওয়াইবিসি এবং বাংলাদেশের আব্দুল মোমেন লি. যৌথভাবে সেতুটির ঠিকাদার। এর ফলে নড়াইলসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণে আরো একধাপ এগিয়ে গেল। ছয় লেনের কালনা সেতুর নির্মাণ কাজ দ্রুতগতিতে চলেছে। তবে ৩৬ মাসের মধ্যে সেতু নির্মাণ কাজ শেষ করতে হবে বলে জানান তিনি।