দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় নতুন গতি, সমন্বিত পরিকল্পনায় এগোচ্ছে মন্ত্রণালয়

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২৬, ১৯:২০

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক, কার্যকর ও জনমুখী করতে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, এমপি দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, সুশাসন এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একাধিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে খাল খনন কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এ উদ্যোগের ফলে জলাবদ্ধতা নিরসন, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, পানি সংরক্ষণ এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে দুর্যোগ-সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ, ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রের উন্নয়ন, সেতু-কালভার্ট নির্মাণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন কার্যক্রমও জোরদার করা হচ্ছে।

প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেও নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন পদক্ষেপ। সাম্প্রতিক জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মেধা, যোগ্যতা ও স্বচ্ছতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাংগঠনিক কাঠামো আরও কার্যকর ও গতিশীল করতে সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর তথ্য আদান-প্রদান, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং দুর্যোগ-পরবর্তী ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে আরও দ্রুত ও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ এবং সেবার মানোন্নয়নে গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।

দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস (ডিআরআর) ফেলো ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব মো. মানসুরুল হক বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবছরই বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হয়। এ বাস্তবতায় আগাম প্রস্তুতি, ঝুঁকি হ্রাস, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া অত্যন্ত সময়োপযোগী। তাঁর মতে, বর্তমান উদ্যোগগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা আরও আধুনিক, সমন্বিত ও কার্যকর হবে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও বাংলাদেশের সক্ষমতা আরও সুদৃঢ় হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকে শুধু ত্রাণ বিতরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ঝুঁকি হ্রাস, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, দক্ষ মানবসম্পদ গঠন এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সমন্বয়ে একটি টেকসই ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে দেশের দুর্যোগ মোকাবিলা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

ইত্তেফাক/এএম