কুমিল্লার তিতাসে বোরো আবাদের আওতায় প্রতিটি ধানের জাতের বাম্পার ফলন হয়েছে। উপজেলার ২৭টি ব্লকে আধা-পাকা ধানের হলুদ আবরণ কৃষকের মুখে হাঁসি ফুটলেও আবহাওয়ার বৈরী আচরণে পাকা ধান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বোরো আবাদকে কেন্দ্র করে কৃষকদের মাঝে ব্যস্ততা দেখা গেছে। কিছু কিছু এলাকার ধান কাটা শুরু হলেও অধিকাংশ এলাকায় আগামী ১০/১২ দিনের মধ্যে পুরোদমে ধান কাটা শুরু হবে। এবার ধান আবাদে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলন হলেও আগামী কয়েকদিনের মধ্যে আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলে পাকা ধান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আতঙ্ক কৃষকদের মাঝে বিরাজ করছে। অপরদিকে ফসলের ন্যায্যমূল্য নিয়েও কৃষকরা দ্বিধা-দ্বন্দ্বে দিন কাটাচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের ২৭টি ব্লকে এবার বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা ৭৪৪০ হেক্টর নির্ধারণ থাকলেও উত্পাদন হয়েছে ৬৭৯৬ হেক্টর। যার মধ্যে ব্রি-ধান-২৯ হয়েছে ৫৫২৪ হেক্টরে, ব্রি-ধান-২৮ হয়েছে ৬৮৩ হেক্টরে, ব্রি-আর-৩ হয়েছে ৩০৫ হেক্টরে, ব্রি-আর-১৬ হয়েছে ২০৫ হেক্টরে, ব্রি-ধান-৫৮ হয়েছে ২৩ হেক্টরে, ব্রি-ধান-৫৯, ব্রি-ধান-৬০ ও ব্রি-ধান-৬৯ হয়েছে ২ হেক্টর করে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামরুল হাসান মিতু জানান, গত বছর বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭৫০০ হেক্টর যার উত্পাদন হয়েছে ৬৪৪০ হেক্টর। এবার ৭৪৪০ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও অর্জিত হয় ৬৭৯৬ হেক্টর। গত বছরের তুলনায় এবার বোরো আবাদ বেড়েছে।
বৃষ্টির পানিতে হাওরে ফসলহানির শঙ্কা
খালিয়াজুরী (নেত্রকোনা) জানান, অতিরিক্ত বৃষ্টির পানিতে নেত্রকোনার খালিয়াজুরীসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার নদী তীরবর্তী হাওরের কিছু বোরো জমি তলিয়ে যেতে পারে। দু’তিন দিন ধরে এমনটি জানিয়ে নদী তীরবর্তী জমির পাকা ধান দ্রুত কেটে নিরাপদ স্থানে নিতে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
বাংলাদেশ ও ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে গানিতিক মডেলের আবহাওয়া পূর্বাবাস সূত্রের বরাত দিয়ে নেত্রকোনা পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আক্তারুজ্জামান জানান, রবিবার থেকে সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, ও তদসংলগ্ন ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রদেশ আসাম, মেঘালয় ও ত্রিপুরার অনেক স্থানে তিন দিন মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে। এতে সুরমা কুশিয়ারা ধনু সুমেস্বরীসহ এ অঞ্চলের প্রভৃতি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ওপর দিয়ে অতিক্রম করে নদী তীরবর্তী হাওরের বোরো ফসলে আঘাত হানতে পারে।
তাই হাওরে পাকা ধান খুব দ্রুত কেটে নিরাপদ স্থানে নেওয়ার জন্য ফেইজ বুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছে নেত্রকোনা পাউবো।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন বাবু জানান, গত বছর আগাম বন্যার পানিতে নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার শতভাগ বোরো ফসল তলিয়ে বিনষ্ট হয়েছিল। তাই এবার এখানকার ফসল রক্ষা জন্য বরাদ্দ দ্বিগুণেরও বেশি বাড়িয়ে ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে বাঁধ।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম জানান, জেলার একমাত্র বোরো ফসলের উপর নির্ভরশীল খালিয়াজুরী উপজেলার পুরোটিই হাওরাঞ্চল। এখানে এবার বোরো আবাদ হয়েছে ১৯ হাজার ৯২০ হেক্টর জমিতে। ওই সমস্ত জমির ধান উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬৭ হাজার মেট্রিক টন। নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক মঈনউল ইসলাম জানান, অতিবৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলের পানি বৃদ্ধি পাবার শঙ্কায় হাওরের বোরো ধান দ্রুত কেটে ফেলতে প্রশাসন থেকেও কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। জেলার প্রত্যেক উপজেলার ইউএনও এবং জনপ্রতিনিধিদেরকে ইতোমধ্যে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে অবিলম্বে ধান কাটার জন্য কৃষকদের সচেতন করতে।
ইত্তেফাক/নূহু