শিবপুরে অবৈধ বালু উত্তোলনে ধানের জমি পুকুরে

শিবপুর উপজেলার দুলালপুর দক্ষিণপাড়ার আবু বক্কর ছিদ্দিক, মোঃ বিল্লাল মিয়া, মোঃ শামীমের দুই ফসলি ধানের জমি, পাকা ধানসহ রবি ও শরীফের পাড়বিহীন পুকুরে একাংশ দেবে গেছে।
 
গত ২৯ এপ্রিল সোমবার বিকেলে হঠাৎ করে পাকা ধানসহ ক্ষেতটির একাংশ পুকুরে দেবে যায়। আবু বক্কর ছিদ্দিক, মোঃ বিল্লাল মিয়া, মোঃ শামীম আজ ৩ মে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় শিবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শীল রায়ের বরাবর দ্বিতীয় দফায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
 
এ ব্যাপারে আবু বক্কর ছিদ্দিক গত ১১ জানুয়ারি নরসিংদী পুলিশ সুপার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরবর্তীতে শিবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বারাবর ৭ ও ২৫ ফেব্রুয়ারি ২টি লিখিত অভিযোগ করে কোন প্রতিকার পায়নি ভূক্তভোগীরা।
 
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, রবি ও শরীফ দুই বন্ধু মিলে ২০১০সালে তাদের পৈত্রিক সম্পতির উপর ২ বিঘা ফসলি জমির মাটি কেটে বালু উত্তোলন করে একটি পুকুর খনন করে মাছ চাষ করার কথা বলে।
 
কিন্তু মাছ চাষ না করে চারপাশের জমির মালিকদের সীমানা ঘেষে স্যালো মেশিনের পাইপ দিয়ে গভীরভাবে খনন করে দিনে ও রাতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করার ফলে পুকুরের চার পাড় ধীরে ধীরে ভেঙে যাচ্ছে।
 
পরে ভুক্তভোগীরা প্রায় ৭/৮ বিঘা জমি বিক্রি করেন। এরা হলেন, বিউটি বেগম, ছিদ্দিক মিয়া, মো: খোকন মিয়া, মো: স্বপন মিয়া, সুরুজ মিয়া ,বকুল মিয়া, বিল্লাল মিয়া ও মসমত আলীদেরকে নামমাত্র মূল্য দিয়ে জোরর্পূবক দখল নিয়ে বর্তমানে ২ বিঘার পুকুরটি ৮ বছরে ১০ বিঘার পুকুর বানিয়ে ফেলেছেন রবি গং।
 
পুকুরের চারপাশের জমির মালিকরা পৈত্রিক সম্পতি রক্ষার জন্য জনপ্রতিনিধি ও এলাকার মাতাব্বর ও প্রশসানের  দ্বারে দ্বারে গিয়ে  অনেকবার লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ করে। কিন্তু ফসলি জমি রক্ষার কার্যকর কোন ভূমিকা না নেওয়ায়  অবশেষে তারা নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করতে বাধ্য হয়। 
 
১০ বিঘা পুকুরের চারপাশের জমির মালিকদের একটাই প্রশ্ন তারা পুকুরের পাড় না বেঁধে তাদের মন গড়ামত বালু উত্তোলন করছে। আমাদের ফসলি জমি এভাবে ভেঙে ভেঙে পুকুরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে!
 
দুলালপুর ৪নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য ছোলাইমান বলেন, এ ব্যাপারে আমার কিছুই করার নাই ভাই। আমি তাদেরকে বলেছি আইনের আশ্রয নেন। দুলালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক খন্দকার মোজাম্মেল হক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।
 
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শীলু রায় বলেন, আজ আমি একটি অভিযোগ পেয়েছি, এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেবো।
 
ইত্তেফাক/নূহু