গফরগাঁওয়ে কৃষক খুন

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানায় বসত বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধের জের ধরে জলিল মিয়া (৫২) নামে এক কৃষক খুন হয়েছে। এই ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছে আরো তিনজন। ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে পুলিশ দুইজনকে আটক করেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার পাগলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
 
নিহত জলিল মিয়া পাগলা গ্রামের মৃত মুকবুল হোসেনের ছেলে। গুরুতর আহত ফিরোজা খাতুন (৬৫) নিহত জলিল মিয়ার চাচী, নয়ন মিয়া (৪২) চাচাতো ভাই এবং লাকী (২৭) মেয়ে। গুরুতর আহতদের আশংকাজনক অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
 
এলাকাবাসী, প্রত্যক্ষদর্শী ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বসতবাড়ির সীমানা নিয়ে জলিল মিয়া ও তারা মিয়ার পরিবারের লোকজনের সাথে প্রতিবেশী এমদাদ, খায়রুল, আনোয়ারের পরিবারের লোকজনের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার দুপুর একটার দিকে তারা মিয়া ও তার পরিবারের লোকজনের অনুপস্থিতিতে এমদাদ, খায়রুল, আনোয়ারের নেতৃত্বে ৭/৮ জনের একদল সশস্ত্র লোক কাউকে কিছু না বলে জলিল মিয়ার চাচাতো ভাই তারা মিয়ার বসত ঘরের দরজা-জানালা ভাঙ্গতে শুরু করে। তারা ঘরের চালের ও বেড়ার টিন খুলে নেয়। ঘরে লুটপাট চালায়।
 
এ সময় জলিল মিয়া ও তার পক্ষের লোকজন বাধা দিতে গেলে এমদাদ, খাইরুল ও আনোয়ারের নেতৃত্বে সশস্ত্র লোকজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে জলিল মিয়া, ফিরোজা খাতুন, নযন মিয়া ও লাকীকে গুরুতর জখম করে।
 
এলাকাবাসী উদ্ধার করে জলিল মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিচ্ছিল। পথে জলিল মিয়ার মৃত্যু হয়। বাকিদের প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে অবস্থার অবনতি হলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
 
জলিল মিয়ার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকের কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
 
পাগলা থানার ওসি মোঃ মুখলেছুর রহামন আকন্দ জানান, এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আনোয়ার হোসেন আনু ও তার স্ত্রী পারুল বেগমকে আটক করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারের এবং  মামলা দায়েরের প্রস্ততি চলছে।
 
ইত্তেফাক/নূহু