রামগড়ে ৪দিন ধরে গ্রামীণফোনের নেটওয়ার্ক নেই

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা রামগড়ে টানা চারদিন ধরে গ্রামীণফোনের নেটওয়ার্ক অচল অবস্থায় আছে। ফলে উপজেলার প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক গ্রাহক চরম ভোগান্তি ও বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে। অন্যদিকে, ফোর-জি নেটওয়ার্ক চালু না করেই কয়েক লাখ সিম বিক্রি করে গ্রাহকদের সাথে প্রতিনিয়তই প্রতারণা করে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট মোবাইল ফোন কোম্পানিটি।
 
জানা যায়, বিদ্যুৎ  চলে যাওয়ার সাথে সাথে গ্রামীণ ফোনের নেটওয়ার্কও বন্ধ হয়ে যায়। এপ্রিল মাসের শেষার্ধে ঝড় বৃষ্টির কারণে কয়েক দফা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হলে গ্রামীণফোনের নেটওয়ার্কও অচল হয়ে পড়ে। ফলে এখানে  দফায় দফায় ঘন্টার পর ঘন্টা গ্রামীণ ফোনের নেটওয়ার্ক অচল অবস্থায় থাকে। রামগড়ে টাওয়ার স্থাপনের পর থেকেই  এ অবস্থা চলে আসছে।
 
এরমধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বভাবিক থাকা অবস্থায় গত সোমবার (৩০ এপ্রিল) রাতে আকস্মিকভাবে গ্রামীণফোনের নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে যায়। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ( ৩ মে, বৃহষ্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা) নেটওয়ার্ক অচল অবস্থায় ছিল।  নেটওয়ার্ক বন্ধ থাকার কারণে সরকারি-বেসরকারি অফিসের গ্রামীণফোনের গ্রাহকরা প্রয়োজনীয় কোন কাজ করতে পারছেন না। উপজেলার প্রায় অর্ধ লক্ষ গ্রামীণ ফোনের গ্রাহক এক প্রকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। টানা চারদিন ধরে নেটওয়ার্ক বন্ধ থাকায় গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বাড়ছে। 
 
নেটওয়ার্কের এ অচলাবস্থার কারণে কোম্পানীটির বিক্রয় বা মাঠে নিয়োজিত কর্মকর্তা কর্মচারীরাও ভীষণ বিরক্ত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক  বিক্রয় কর্মকর্তা বলেন, তারা চরম বিব্রতকর অবস্থায় আছেন। গ্রাহকরা তাদের দেখলে তেড়ে আসেন। ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও গালমন্দ শুনতে হচ্ছে।
 
গ্রাহকরা জানান, অনেকের মেগাবাইট ও এয়ার টাইম ব্যবহারের সময়সীমা শেষ হয়ে গেছে। নেটওয়ার্ক না থাকায় ব্যবহার করতে পারেননি। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন অগণিত গ্রাহক। 
 
এদিকে টানা ৪দিন ধরে নেটওয়ার্ক অচল থাকার বিষয়ে কথা বলতে গ্রামীণ ফোনের চট্টগ্রামের রিজিওনাল ম্যানেজার শরীফ মাহমুদ খানের মোবাইল ফোনে একাধিকভার কল দিলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
 
খাগড়াছড়ির অন্য এক কর্মকর্তার মোবাইল ফোনে কল দিলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। চট্টগ্রামের বারইয়ারহাটে গ্রামীণ ফোনের ডিস্ট্রিবিউশনের দায়িত্বে নিয়োজিত আব্দুল্লাহ আল ফাহাদ বলেন, টানা চারদিন নেটওয়ার্ক অচল থাকার কারণ তারা জানেন না। খাগড়াছড়ি জেলার নেটওয়ার্ক সিস্টেমসহ যাবতীয় বিষয় কোম্পানীর হেড অফিস তদারকি করেন। তিনি জানান, সমস্যা সমাধানের কাজ চলছে। আগামীকাল শুক্রবার হয়তো নেটওয়ার্ক চালু হবে।
 
লোডশেডিং বা অন্য কোন কারণে বিদুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে গ্রামীণফোনের নেটওয়ার্কও বন্ধ হয়ে যায়। সংশ্লিষ্টরা জানান, সয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু রাখার জন্য টাওয়ারে কোন জেনারেটর বসানো হয়নি। কম ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যাটারি স্থাপন করা হয়েছে টাওয়ারে। ফলে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সাথে সাথেই নেটওয়ার্কও বন্ধ হয়ে যায়।
 
অন্যদিকে, স্বাভাবিক অবস্থায়ও দুর্বল নেটওয়ার্কের কারণে ঘন ঘন কল ড্রপ, ভয়েজ কলে অস্পষ্টতায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকরা বিরক্ত। এছাড়া থ্রি জির গতিও কচ্ছপ গতির মত। অথচ থ্রি জি’র সেবা পুরোপুরি নিশ্চিত না করে ফোর জি চালুর কথা বলে গ্রাহকদের ধোঁকা দিচ্ছে কোম্পানীটি। গ্রাহকরা উন্নত সেবা পাওয়ার আশায় ফোর জি’র সিম কিনে প্রতারিত হচ্ছেন।
 
ইত্তেফাক/নূহু