আইপিএল খেলতে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে বেড়াচ্ছেন। এরই মাঝে দুই দিনের জন্য এসেছিলেন দেশে। সেই সুযোগে দৈনিক ইত্তেফাককে দেওয়া একান্ত সাক্ষাত্কারে টেস্টের উন্নতি নিয়ে কথা বললেন সাকিব আল হাসান। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের সাক্ষাত্কার নিয়েছেন দেবব্রত মুখোপাধ্যায়।
টেস্টে আট নম্বরে ওঠাটা কতো বড় অর্জন?
ওয়ানডেতে ছয় বা সাতে ওঠার চেয়ে এটা বড় অর্জন। অনেক বড়।
একটু বুঝিয়ে বলবেন, কেন এমন মনে করছেন?
টেস্টে তো আমরা সেভাবে ফোকাস রাখতে পারি না। ওয়ানডের র্যাংকিং, সাফল্য; এগুলো নিয়ে এক ধরনের ফোকাস থাকে সবসময়। বিপরীতে টেস্টে আমরা আগে একদমই ধারাবাহিক ভালো খেলতে পারতাম না। এখন র্যাংকিংয়ে এই উন্নতিতে বোঝা যাচ্ছে, আমরা অন্তত ধারাবাহিক কিছু সাফল্য পাচ্ছি।
এটাকে তাহলে আমাদের ধারাবাহিক হয়ে ওঠার একটা প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন?
অবশ্যই। আমরা গত বছর দুয়েকে ওয়ানডের পাশাপাশি টেস্টেও যে নিয়মিত ভালো খেলছি, তার প্রতিফলন এই র্যাংকিং। আমরা অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, শ্রীলঙ্কার মতো দলের বিপক্ষে জয় পেয়েছি। এটা সহজ কথা নয়। এই সাফল্যগুলোই প্রভাব ফেলেছে এখানে।
আমাদের এই উন্নতির পেছনের কারণ যদি হয় ধারাবাহিকতা, সেটা অর্জনের রহস্যটা একটু বলবেন?
সেটা তো একদিনে হয়নি। একটু একটু করে আমরা সাফল্য পেতে শুরু করেছি। টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছে। আমরা অনেকে পারফরম করতে শুরু করেছি। কিন্তু এটা যথেষ্ট নয়। আমাদের আরও ভালো করার সুযোগ আছে। অনেক ভালো করা প্রয়োজন।
এই স্বীকৃতিটা এমন সময়ে এলো, যখন আপনি টেস্ট অধিনায়ক। এটা কী আপনার কাজটাকে আরও চ্যালেঞ্জিং করে দিল? এখন এখান থেকে এগোতে হবে, অন্তত ধরে রাখতে হবে এই র্যাংকিং...
না, আমি এভাবে দেখি না। আসলে চ্যালেঞ্জ তো সবসময়ই থাকবে। র্যাংকিংয়ে উন্নতি হয়েছে বলে চ্যালেঞ্জ বেড়ে গেছে, তা নয়। আমাদের সামনে এমনিতেই অনেক চ্যালেঞ্জ। আমাদের এখন দেশের বাইরে ভালো ক্রিকেট খেলা শুরু করতে হবে। এটা সত্যি যে, র্যাংকিংয়ে যাতে না পেছাই, সেই চ্যালেঞ্জটা সবসময় মাথায় রাখতে হবে।
এখান থেকে আরেকটু এগোনোর উপায়টা কী?
যেটা বললাম, আরও ধারাবাহিক হওয়া এবং দেশের বাইরে ভালো করা। হুটহাট একটা দুটো জয় পাওয়া নয়, আমাদের লক্ষ্য হতে হবে, দেশে বা দেশের বাইরে আরও নিয়মিত পারফরম করা। সেটা করতে পারলে র্যাংকিংয়ে এমনিতেই প্রভাব পড়বে। আসলে আমরা যদি মাঠের ক্রিকেটটা ভালো খেলতে পারি, র্যাংকিং নিয়ে ভাবতে হবে না।
র্যাংকিংয়ের জন্য বিবেচনার এই সময়ে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি উইকেট আপনার, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান আপনার। এই অর্জনটা কী তাহলে আরেকটা সাকিবীয় অর্জন?
নাহ। সেভাবে দেখা ঠিক হবে না। একা পারফরম করে তো কখনো এতদূর আসা যায় না। বাকিরাও ভালো খেলেছে বলে এটা সম্ভব হয়েছে। তবে এটা ঠিক যে, এই পরিসংখ্যান দেখে ভালো লাগছে। দলের জন্য যতোটা অবদান রাখা সম্ভব, তাই রাখতে চাই। এতে মনে হচ্ছে, কিছুটা হলেও পেরেছি।
একটু অন্য প্রসঙ্গ। আইপিএল খেলতে গিয়ে টি-টোয়েন্টিতে চার হাজার রান ও তিন’শ উইকেটের ক্লাবে ঢুকলেন। সেটা কেমন ছিল আপনার জন্য?
আমি এই ব্যাপারটা নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত। সারা পৃথিবীতে আমি ছাড়া আর একজন মাত্র ক্রিকেটারের এই অর্জন আছে। এতেই বোঝা যায়, ব্যাপারটা কতো বড়। হঠাৎ করে একদিন ভালো ক্রিকেট খেলে এই অর্জন করতে পারিনি। এ জন্য অনেকদিন ধরে ভালো ক্রিকেট খেলে যেতে হয়েছে। তাই অন্য অনেক কিছুর চেয়ে এই ব্যাপারটার মূল্য আমার কাছে বেশি।
আরও এগিয়ে যাওয়ার ইচ্ছাটা আছে নিশ্চয়ই?
অবশ্যই। সবার কাছে দোয়া চাই সেজন্য। আমি জেনো এই তালিকার এক নম্বরে উঠতে পারি। সেজন্য যা করা দরকার, সেই পারফরমটা যেন করতে পারি।
ইত্তেফাক/মোস্তাফিজ