পানিসম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, আবাহনী মানেই স্বাধীন চেতনার সংগঠন। অনেকে বলেন আবাহনীকে নিয়ে কোনো রাজনীতি নেই। যদি তাই হবে তা হলে আবাহনীর এতো চড়াই উত্রাই কেন? কেন আবাহনীর উপর এতো আঘাত এসেছিল বার বার? কেন সংকটের কথা বলা হয়? আবাহনীকে নিয়ে রাজনীতি ছিল। ক্লাবের সামনে সীমানা দেয়াল দেখিয়ে অনুষ্ঠানে আগত অন্যান্য অতিথিদের উদ্দেশ্যে বলেন, এই যে, বাউন্ডারি দেখেন। এটা আবাহনীকে সীমানা বেঁধে দেয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, যে সংকটের কথা বলা হয় আবাহনী সেই সংকট উের এসেছে। সেই সংকট আর কোনো দিন বাংলাদেশে হবে না।
সম্প্রতি আবাহনীর কোচ, খেলোয়াড়, কর্মকর্তা, আবাহনীর সমর্থক গোষ্ঠীর যেসব ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের স্মরণে গতকাল শুক্রবার আবাহনী সমর্থক গোষ্ঠী কর্তৃক ক্লাব ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এসব কথা বলেন।
অতীতের স্মৃতিচারণ করে মন্ত্রী বলেন, ‘এই ক্লাবের পাশেই আমাদের বাসা। কামাল আমাদের বাসায় আসত। ছোট হলেও সে ছোটবড় সবার সঙ্গে মিশে যেত। স্বাধীনতার পর পর তখন তরুণ সমাজকে কেউ চিনতো না জানতো না। তাদের সবাইকে একত্র করেছিলেন শেখ কামাল।’ তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা প্রধানমন্ত্রীর ছেলে খেলাধুলা করে। জাতির পিতা প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সেঁতার বাজায়। জাতির পিতা প্রধানমন্ত্রীর ছেলে নাটক করে। কোনো মন্ত্রীর ছেলেওতো এগুলো করে না।’ মন্ত্রীর মুখে তরুণরা শুনছিলেন শেখ কামাল কিভাবে খেলাধুলায় জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন। আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বললেন, ‘শেখ কামাল বড় বড় ব্যবসা করতে পারতেন। এখন যেটা প্রযোজ্য। কামাল সেদিকে পা দেননি। এতো শক্তিশালী মানুষের সন্তান হয়েও তিনি তরুণদের জন্য খেলার সংগঠন করে গেছেন। তখন যদি এই আবাহনী না করতেন, তাহলে এই মাঠ আর মাঠ থাকতো না। এখানে প্লট হয়ে যেতো।’ তিনি বলেন, ‘আরো কিছু বলতে চাই, বলব? আমাকে তত্কালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন, অমুক ক্লাবের জন্য কিছু করতে হবে। বলুন, এই ক্লাব ছেড়ে আমি নটরডেমের পাশে কেন যাবো?
অনুষ্ঠানে শেষে আবাহনী ক্রীড়া চক্রের সর্বশেষ সভাপতি প্রয়াত একেএম মুহিত উদ্দিন, আবাহনীর প্রয়াত কোচ অমলেস সেন, আবাহনী সমর্থক গোষ্ঠীর উপদেষ্টা ফজলে এলাহী বাদল, প্রয়াত হকি তারকা জুম্মন লুসাই, প্রয়াত সাবেক ফুটবলার শামসুল ইসলাম মোল্লা সামসু, হকি তারকা খাজা রহমত উল্যাহ, ফুটবল তারকা প্রয়াত গোলকিপার আব্দুল মোতালেব এবং আবাহনী সমর্থক গোষ্ঠীর কেন্দ্রীয় কার্যকরী সংসদের সহ-সভাপতি খন্দকার রফিকুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের স্বজনদের হাতে ক্রেষ্ট তুলে দেন মন্ত্রী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও আবাহনীর পরিচালক শাহারিয়ার আলম, পরিচালক আব্দুস সাদেক, পরিচালক জাহাঙ্গীর হোসেন, সমর্থক গোষ্ঠীর সভাপতি বেলায়েত হোসেন বাবু, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান, সাবেক তারকা ফুটবলার দেওয়ান সফিউল আরেফিন টুটুল, সমর্থক গোষ্ঠীর কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বাদশা, প্রধান উপদেষ্টা কাজী আব্দুল হাকিম, উপদেষ্টা মির্জা ফজলুল করিম বেগ, জাতীয় পার্টি (জেপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক সুপ্রিমকোর্টের আইজীবি এনামুল ইসলাম রুবেল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ইত্তেফাক/নূহু