রায়পুরে কালবৈশাখীতে শতাধিক বাড়ি ও ফসলের ক্ষতি

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার উপকূলীয় ৮নং দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের ৩টি ওয়ার্ডের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখীতে অসংখ্য গাছপালা উপড়ে শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে চরের চরকাছিয়া হাজিমারা আশ্রয়কেন্দ্র প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। এসময় ঘরচাপা পড়ে ফজিলত নেছা (৬৫) ও লফিক মৃধাসহ ৫ জন আহত হয়েছে। তাদের উদ্ধার করে রায়পুর সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
 
শনিবার রাতে দুই দফায় বয়ে যাওয়া কালবৈশাখীর আঘাতে এ অবস্থা হয়। রাত থেকে এখন পর্যন্ত পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
 
চরবংশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু জাফর মিন্টু ফরাজী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ও ভোর সাড়ে চারটার দিকে শুরু হয়ে ২৫ থেকে ৩০ মিনিট চলে কালবৈশাখীর তাণ্ডব। এতে উপজেলার দক্ষিণ চরবাংশী ইউনিয়নের হাজীমারা, বেড়ির দুপাশ ও টুনুরচরসহ প্রায় ৭ থেকে ৮টি গ্রামে শতাধিক কাঁচা ঘর বিধ্বস্ত হওয়ার পাশাপাশি গাছপালা ও উঠতি রবি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ সময়  উড়িয়ে নিয়ে গেছে  চরকাছিয়া হাজিমারা আশ্রয়কেন্দ্র প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। অনেকেই রাত থেকে খালা আকাশের নিচে বসবাস করছে।
 
কালবৈশাখীতে কাঁচা ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য জানাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সকালে ওইসব এলাকা পরিদর্শন করে তালিকা তৈরি নির্দেশ দিয়েছেন।
 
এমবিএম ইটভাটা মালিক বাহার উদ্দিন মামুন বলেন, শ্রমিক-সংকটের কারণে ইটভাটার কাজ দেরিতে শুরু হয়। এ কারণে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। তার মধ্যে কালবৈশাখীতে তৈরি ইট গলে নষ্ট হওয়ায় মালিকেরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। তাঁর ইটভাটায় ৭ থেকে ৮ লাখ ইট নষ্ট হয়ে গেছে। যার বজার মূল্য ১৫ লাখ টাকা।
 
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিল্পী রানী রায় বলেন, খবর পেয়ে তিনি সকালে সরজমিনে ওই ইউনিয়নের বিদ্যালয়, ঘরবাড়ি ও গাছপালাসহ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তালিকা তৈরি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে স্থানীয় চেয়ারম্যাকে।
 
ইত্তেফাক/নূহু