আইভীর বাড়িতে দাওয়াত খাওয়ার আগ্রহ সেলিম ওসমানের

নারায়ণগঞ্জ সদর-বন্দর আসনের সাংসদ সেলিম ওসমান বলেছেন, ‘অল্প কিছু হকারের জন্য কয়েক লাখ নগরবাসী দুর্ভোগ পোহাবে তা মেনে নেয়া হবে না।’
 
মেয়রের বক্তব্যকে সমর্থন দিয়ে সেলিম ওসমান বলেন, ‘কোনো মতেই বঙ্গবন্ধু সড়কে কোনো হকার বসবে না। এই সড়কে হকার বসলে নগরবাসীর কতটা দুর্ভোগ হয় তা হয়তো আন্দোলনকারীরা জানেন না। তবে রমজান মাসের চারটি শুক্রবার বিকেল ৫টা থেকে এখানে হকারদের বসতে দেয়া যায় কিনা সে ব্যাপারে মেয়রের সাথে আমরা বসবো।’
 
তিনি আরও বলেন, ‘মেয়র আমাকে দাওয়াত না দিলেও আমি  স্বেচ্ছায় মেয়রের বাসায় দাওয়াত খেতে যাব। আমি ও মেয়র এক টেবিলে বসলে নারায়ণগঞ্জে কোন সমস্যা থাকবে না।’
 
তিনি আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু সড়ক ছাড়া হকারদের অন্যত্র বসতে কোনো নিষেধ করেননি মেয়র। তারপরও তাঁরা দাবি করছেন বঙ্গবন্ধু সড়কে বসার। যত আন্দোলনকই করা হোক, এখানে বসতে দেয়া যাবে না। এই সড়ক শুধু মানুষের চলাচলের জন্যই থাকবে।’
 
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক রাব্বি মিয়া বলেন, ‘যানজটের সমস্যা না থাকলে নারায়ণগঞ্জ হতো সর্বসেরা। আপনারা জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখবেন, ৪১টি মেগা প্রজেক্টের কাজ চলছে সারা জেলায়। নারায়ণগঞ্জ বাংলাদেশের অর্থনীতির নিউক্লিয়াস। যানজট যদি না থাকতো তাহলে নারায়নগঞ্জ হতো অন্যতম একটি জেলা। আসলে যানজট সমস্যা কেবল নারায়ণগঞ্জ জেলার সমস্যা নয়। যানজট বাংলাদেশের একটি জাতীয় সমস্যা। অটো, ট্যাম্পু এসব জাতীয় সমস্যা। এ সমস্যা নিরসনে প্রতিষ্ঠানিক কোন এ্যাকশনে না গিয়ে আপনি, আমি, দলমত নির্বিশেষে সকলে একত্রে মিলে কাজ করতে হবে। নারায়ণগঞ্জের যানজটকে সহনীয় পর্যায়ে রেখে উন্নয়কে আরো এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’
 
রবিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে নাসিক আওতাধীন বঙ্গবন্ধু সড়কস্থ নিতাইগঞ্জ, মন্ডলপাড়া, চাষাঢ়াসহ তৎসংশ্লিষ্ট এলাকার যানজট নিরসনের লক্ষ্যে আয়োজিত মত বিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
 
এ সময় সকাল ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সীমিত পরিসরে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান শহরে ঢোকার অনুমতি নিয়ে সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ ও ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দসহ সকলের সঙ্গে মুক্ত আলোচনা করা হয়।
 
মত বিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন সদর-বন্দর আসনের সাংসদ এ কে এম সেলিম ওসমান, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাংসদ হোসনে আরা বেগম বাবলী, জেলা পুলিশ সুপার মঈনুল হক, বিপিএম, পিপিএম, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এফ এম এহতেশামূল হক, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোসনে আরা বেগম, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা জেলা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী, নারায়ণগঞ্জ কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফজলুল হক রুমন রেজাসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা ও জেলার বিভিন্ন ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দ।
 
নারায়ণগঞ্জ সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাংসদ হোসনে আরা বাবলী বলেন, ‘আমাদের নারায়ণগঞ্জে ভিতরের যে যানজটের সমস্যা রয়েছে তা অচিরেই দূর হয়ে যাবে বলে আমি মনে করি। সকলের সম্পৃক্ততা থাকলে এ সমস্যা দূর করা কোন ব্যাপার না। আশা করি, আমাদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর হবে।’
 
ইত্তেফাক/নূহু