৬ মদের কারাখানার সন্ধান, বিপুল পরিমাণ উপাদান জব্দ

র‌্যাব-৭ কক্সবাজার ক্যাম্পের একটি দল চকরিয়া উপজেলার মানিকপুরের রাখাইন পল্লীতে অভিযান চালিয়ে ছয়টি চোলাই মদ তৈরির কারাখানার সন্ধান পেয়েছে। এসময় ৯৫ হাজার কেজি মদ তৈরির উপাদানসহ পাঁচ হাজার লিটার তৈরি করা চোলাই মদ জব্দ করা হয়। আজ সোমবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত টানা পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী এ অভিযান চালানো হয়।
 
চকরিয়ার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. খোন্দাকার ইখতিয়ার উদ্দীন আরাফাতের নেতৃত্বে এ অভিযান চালানো হয়। এসময় মেমং রাখাইন (৬৪) নামের একজনকে আটক করে পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ছাড়াও অভিযানে র‌্যাব-৭ কক্সবাজার ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর মো. রুহুল আমিন নেতৃত্ব দেন। এসময় তাদের সাথে ছিলেন- সুরাজপুর-মানিকপুর ইউপি চেয়ারম্যান আজিমুল হক আজিম, ভূমি অফিসের সহকারী তপন কান্তি পাল প্রমুখ।
 
র‌্যাব-৭ কক্সবাজার ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর মো. রুহুল আমিন বলেন, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মানিকপুরের রাখাইন পল্লীতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানকালে বেশ কয়েকটি ঘরের ভেতরে বাইরে চোলাই মদ তৈরির ছয়টি কারাখানার সন্ধান পাওয়া যায়। সেখান থেকে জব্দ করা হয় পাঁচ হাজার লিটার তৈরি করা চোলাই মদ ও ৯৫ হাজার কেজি মদ তৈরির উপাদান।
 
তিনি আরো বলেন, জব্দ করা মদ ও উপাদান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। র‌্যাবের অভিযান চলাকালে সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে, অন্তত ছয়টি ঘরের ভেতরে-বাইরে ভাত পঁচাসহ ৯-১০ প্রকারের উপাদান দিয়ে চোলাই মদ তৈরির দৃশ্য। সেখানে মদ মজুদের অভিনব পন্থাও আবিষ্কৃত হয়। ঘরের ভেতরে ও উঠানে মাটিতে গর্ত খুঁড়ে প্লাস্টিকের ড্রামে ভর্তি করে মদ রাখা হয়েছে। কয়েকটি বাড়িতে মাটির নিচে পুতে রাখা মদের উপরে কৌশলে মাটি চাপা দিয়ে হলুদসহ বিভিন্ন চাষাবাদ করা হয়েছে মজুদ রাখা মদ প্রশাসনের নজর থেকে এড়াতে। এ পল্লীতে দীর্ঘদিন ধরে তৈরি করা চোলাই মদ চকরিয়াসহ নিকটবর্তী কয়েকটি উপজেলায় বাঙালিরা পাচার করে আসছে বলে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানায়।
 
ইত্তেফাক/এসএস